ওসমান পরিবারের সদস্যের নামে স্থাপনার সমালোচনা: রাব্বির বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২২ পিএম

নারায়ণগঞ্জের বিখ্যাত ওসমান পরিবারের সদস্যদের নামে সরকার কর্তৃক কয়েকটি স্থাপনার নামকরণের সমালোচনা করায় তেল গ্যাস বন্দর রক্ষা কমিটির জেলা আহ্বায়ক রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে সদর থানায় জিডি করেছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা। একই অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া। 

তার দাখিল করা পিটিশন পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার (৩১ আগস্ট) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবীর সদর থানা অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী ও জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি মহসিন মিয়া দেশ রূপান্তরকে জানান, যে তিনজনের নামে শীতলক্ষ্যা সেতু ও দুটি মহাসড়কের নামকরণ করা হয়েছে তারা সবাই প্রয়াত। তাদের মধ্যে দুজন ভাষা সৈনিক, একজন স্বাধীনতা যুদ্ধের সংগঠক এবং অপরজন একাধিকবারের নির্বাচিত এমপি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তা ছাড়া এত বিশাল পরিধির স্থাপনা নামকরণের নেপথ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা ছিল বলেই হয়েছে। সেখানে বিবাদী রফিউর রাব্বির এমন বক্তব্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী তথা রাষ্ট্রের বিরোধিতা ও অবমাননার সামিল।

অপরদিকে এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ জামান জানান, আদেশের কপি পেয়েছি। আদালত তদন্তপূর্বক এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে আদলত নির্দেশ দিয়েছেন, আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯ ও ৩১ ধারায় আনা অভিযোগসমূহ প্রাথমিক অনুসন্ধানে সঠিক মর্মে প্রতীয়মান হলে এফআইআর হিসেবে রুজু করা হোক। একই সঙ্গে মূল নথি প্রেরণ করা ও উপনথি সংরক্ষণ করা হোক।

রাষ্ট্র ও সরকারের মন্ত্রীদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ এনে গত ৩১ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (ক অঞ্চল) পিটিশন করেন মুহাম্মদ মোহসীন মিয়া।

দায়ের করা অভিযোগের নথি থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশীদ বন্দর উপজেলায় নির্মাণাধীন ৩য় শীতলক্ষ্যা সেতুটি প্রয়াত সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একেএম নাসিম ওসমান সেতু, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড থেকে চাষাড়া পর্যন্ত নির্মাণাধীন আট লেনের আঞ্চলিক মহাসড়কটি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ভাষা সৈনিক স্বাধীনতা পদকে ভূষিত (মরোণত্তর) একেএম সামসুজ্জোহা সড়ক এবং চাষাড়া থেকে আদমজী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটি প্রয়াত ভাষা সৈনিক বেগম নাগিনা জোহা সড়ক হিসেবে নামকরণের প্রস্তাব রাখেন। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিষয়টি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আকারে পেশ করা হয়।

গত ২৫ মে তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উক্ত তিন স্থাপনাকে নামকরণের ঘোষণা দেওয়া হয়। 

গত ৮ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের আলী আহাম্মদ চুনকা মিলনায়তন চত্বরে একটি অনুষ্ঠানে রফিউর রাব্বি তার বক্তব্যে বলেন, “সরকারের মন্ত্রী আমলারা টাকা খেয়ে নারায়ণগঞ্জের রাস্তা ও স্থাপনার নামকরণ করেছে। যে সব মন্ত্রী-আমলারা এ নামকরণ করেছেন তাদের কাছে জানতে চাই, যাদের নামে নামকরণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে বা দেশে তাদের অবদান কি? খুন-খরাপি লাশ ফালানো এই যোগ্যতার মধ্যে পরে কিনা? মেনডেড ছাড়া সরকার বলেই জনমতের তোয়াক্কা না করে যা ইচ্ছা তাই করে চলেছে।”

এদিকে আদালত সূত্র জানায়, মহসিন মিয়ার মামলার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক গত ৩১ আগস্ট নির্দেশনায় লিখেছেন, ‘আনীত অভিযোগ সমূহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৯, ৩১ ধারায় আমলযোগ্য, যা সত্যতা নির্ণয়ের দাবি রাখে। এ অতাবস্থায় অভিযোগসমূহ প্রাথমিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে সঠিক মর্মে প্রতীয়মান হলে এফআইআর হিসেবে রুজু করার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়া গেল”।

এর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও প্রবীন আইনজীবী খোকন সাহা একই ইস্যুতে রফিউর রাব্বির বিরুদ্ধে গত ১৫ জুন সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। 

গত ৮ আগস্ট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদ বিষয়টি আমলে নিয়ে সেপ্টেম্বরের মধ্যে জিডির বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ অপহরণের দুদিন পর রফিউর রাব্বীর ছেলে তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল শীতলক্ষ্যা নদীর শাখাখাল থেকে। 

এ ঘটনায় রফিউর রাব্বি শামীম ওসমানের ভাতিজা ও জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলেকে দোষারোপ করে আসছেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের মামলা এখনো অমীমাংসিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত