মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ এবার দর্শকদের সামনে হাজির হতে যাচ্ছে। ইংরেজি ভাষার ছবিটি দক্ষিণ কোরিয়ার বুসান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের কিম জি সুক অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছে।
সোমবার উৎসবের ওয়েবসাইটে এ ঘোষণা এসেছে। কিম জি সুক বিভাগে দুটি পুরস্কার দেওয়া হয়। যার মূল্যমান ১০ হাজার ডলার।
এশিয়ার অন্যতম এ উৎসবের ২৬তম আসর বসছে এবার। ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর সঙ্গে মনোনয়ন পেয়েছে আরও ছয়টি সিনেমা। এর মধ্যে আছে ফিলিপাইনের বিখ্যাত পরিচালক ব্রিলান্তে মেন্ডোজার ‘জেনসান পাঞ্চ’, সিঙ্গাপুরের রয়স্টান টানের ‘২৪’, জাপানের নাওমি ওগিগামির ‘রিভারসাইড মুকোলিটা’, আজারবাইজানের ইলগার নাজাফের ‘সুগরাস সন্স’, চীনের ওয়াং কুই-এর ‘বারগেইন’ ও ভারতের অপর্ণা সেনের ‘দ্য রেপিস্ট’।
‘নো ল্যান্ডস ম্যান’-এর প্রধান চরিত্রে আছেন বলিউড অভিনেতা নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকী। আর আছেন তাহসান রহমান খানসহ বিদেশি অনেক অভিনেতা। ছবিটির শুটিং হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায়।
জাতি, ধর্ম ও জাতীয়তাবাদের কারণে সৃষ্ট বৈষম্য ও বিদ্বেষ নিয়ে লেখা হয়েছে এ ছবির গল্প। দেশি-বিদেশি একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ প্রযোজনায় আরও আছেন ভারতের সংগীত কিংবদন্তি এ আর রহমান। ছবির সংগীতও তার।
কিম জি সুক অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হওয়ার দিনে নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকীর ফার্স্ট লুক প্রকাশ করেছেন নির্মাতা। যা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সাড়া পড়ে বেশ।
সিনেমাটি নিয়ে ফারুকী তার নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন, ‘নির্মাতা হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত কিছু অনুভূতিকে সিনেমায় ব্যাখ্যা করেছি! যা মানসিক আঘাত আমার পৃথিবী নিয়ে ভাবনার এবং দেখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’ “আমার জন্ম হয়েছে দেশের দক্ষিণাঞ্চল নোয়াখালীতে। এই এলাকার মানুষদের নিয়ে বহু বছর ধরেই ট্রল করা হয়। তাই, খুব কম বয়সেই আমি বুঝে গেছি, এই ট্রলের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে! কোন এলাকা থেকে এসেছি তা নিয়ে মিথ্যা বলা শুরু করলাম। আমার স্কুলের কোনো বন্ধুকে বাড়িতে আনতাম না, তারা যেন আমার বাবা মায়ের আঞ্চলিক ভাষা শুনে আমার এলাকা সম্পর্কে ধারণা করতে না পারে। বড় হতে হতে বুঝতে পেরেছি এটা মনের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে, কীভাবে আমাদের হৃদয়ে একটি শূন্যস্থান তৈরি করে দেয় যখন আমরা নিজের পরিচয়ে পরিচিত হতে পারি না, নিজেকে গ্রহণ করতে পারিনা, নিজের পরিচয় নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারি না। এই বিষয়টি আমার কাজে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ছোটবেলার এই অস্তিত্বহীনতার ব্যথা ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’ -এর কেন্দ্রীয় চরিত্র অনুভব করে।”
বর্তমানে সিনেমাটির পোস্ট-প্রোডাকশনের শেষ সময়ের কাজ নিয়ে কলকাতা আছেন ফারুকী।
এর আগে ২০১২ সালে বুসানে সমাপনী ছবি হিসেবে প্রদর্শিত হয় ফারুকীর ‘টেলিভিশন’।
৬ অক্টোবর শুরু হয়ে বুসান চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা নামবে ১৫ অক্টোবর।
