সোশ্যাল মিডিয়ার কাছে আমরা অসহায় : মোস্তাফা জব্বার

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৪২ এএম

সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট অপসারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির ‘অসহায়ত্বের’ কথা স্বীকার করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইচ্ছা করলেই কোনো কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে পারে না। অনেক জায়গায় অসহায়ত্ব ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। নানা ক্ষেত্রে ইন্টারনেট যেমনি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, তেমনি অপরাধগুলোও বাড়ছে। পর্নোগ্রাফির সাইট, জুয়ার সাইট যখনই পাওয়া যাচ্ছে বন্ধ করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাকি বিষয়গুলোতে আমরা এক ধরনের অসহায়ত্বে আছি, যেমন সোশ্যাল মিডিয়া; আমরা তাদের কৃপার ওপর নির্ভরশীল।

গতকাল বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কার্যালয়ে সোশ্যাল মিডিয়া, কনটেন্ট ও আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিটিআরসির প্রধান সম্মেলন কক্ষে কমিশনের চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো: আফজাল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাইবার জগতের কনটেন্ট মনিটরিং ও ব্যবস্থাপনায় বিটিআরসিতে নতুন করে ‘সাইবার সিকিউরিটি সেল’ গঠন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মোস্তাফা জব্বার বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশই সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট মুছে ফেলার প্রযুক্তি আবিষ্কার করতে পারেনি, যা করা  সম্ভব, তা হলো দেশে পুরো ইউটিউব এবং ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়া। বিটিআরসির সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিটিআরসি কেবল ইউটিউব, ফেইসবুককে কোনো কনটেন্ট সরাতে অনুরোধ করতে পারে। যদি সে কনটেন্ট তাদের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড পরিপন্থী হয়, তবে ফেইসবুক কর্তৃপক্ষ তা অপসারণ করে, নয়তো করে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকার কিংবা আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি ব্যবস্থা নেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট জগতে কোনো কিছু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, অপরাধীরা বিভিন্ন সূত্র ব্যবহার করে অপরাধ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, এক সময় বিটিআরসি আইএসপি ও টেলকোগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারত, এ ছাড়া আর কিছু করতে পারত না। বর্তমানে ওয়েব সাইটগুলো বাংলাদেশের সীমানায় বন্ধ করতে পারি।

সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত ভিডিও, ছবি অপসারণে বিটিআরসির ভূমিকা নিয়ে গত রবিবার উষ্মা প্রকাশ করে হাইকোর্ট। তার এক দিন পর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

বিটিআরসির ক্ষমতার বিষয়টি বোঝার আহ্বান জানিয়ে মোস্তাফা জব্বার বলেন, যারা ডিজিটাল অপরাধ নিয়ে আইন আদালতের কাছে যান, তারা অন্ততপক্ষে আমাদের অবস্থাটা বুঝবেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে অনেকেই অপব্যবহার করছে, আপত্তিকর কনটেন্ট, ভিডিওর ফলে শিশুরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দেশ ও জাতির কল্যাণে, দেশি-বিদেশি অপশক্তিকে প্রতিহত করতে অনলাইনের ক্ষতিকর উপদান অপসারণে ডাক ও টেলিযোগযোগ বিভাগ এবং বিটিআরসি কাজ করছে।

সভাপতির বক্তব্যে বিটিআরসি চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর শিকদার বলেন, বিটিআরসি প্রতিনিয়ত অনলাইন মনিটরিং করছে, তবে এক্ষেত্রে আমাদের জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে কীভাবে সাইবার জগতকে অধিক নিরাপদ করা যায় সে বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি অভ্যন্তরীণ যেকোনো ওয়েবসাইট/লিঙ্ক/ব্লগ বা সংশ্লিষ্ট অনলাইন কনটেন্ট বন্ধ/সাময়িক স্থগিত/অপারেশনাল কার্যক্রম সীমিতকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।

স্বাগত বক্তব্যে কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান সুব্রত রায় মৈত্র বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী, ধর্মীয় উসকানিমূলক বা এ সংক্রান্ত কোনো কনটেন্ট অপসারণ কিংবা বন্ধ করার অনুরোধ পাওয়া সাপেক্ষে বিটিআরসি কারিগরি ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। অতএব কেউ সামাজিক মাধ্যম দ্বারা ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিলে বিটিআরসি পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বিটিআরসির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রি. জে. মো. নাসিম পারভেজ জানান, ইতিমধ্যে সিটিডিআরের মাধ্যমে ২২ হাজার পর্নোগ্রাফি ও জুয়াড়ি সাইটে প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। গত এক বছরে বিটিআরসি ফেইসবুক কর্তৃপক্ষকে ১৮ হাজার ৮৩৬টি লিঙ্ক অপসারণের অনুরোধ করে, যার মধ্যে ৪ হাজার ৮৮৮টি লিঙ্ক অপসারণ করা হয় এবং ইউটিউবে ৪৩১টি লিঙ্ক বন্ধ করার অনুরোধের প্রেক্ষিতে ৬২টি লিঙ্ক বন্ধ করা হয়।  এ ছাড়া সিটিডিআরের মাধ্যমে ১০৬০টি ওয়েবসাইট এবং লিঙ্ক বন্ধ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত