আওয়ামী লীগের ত্রিপক্ষীয় ধাওয়ায় অস্ত্রধারী ৩ যুবক: গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:২৮ পিএম

নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে রোববার বিকেলে আওয়ামী লীগের ত্রিপক্ষীয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার সময় অস্ত্র হাতে তিন যুবকের ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। তবে তাদের কাউকে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। অস্ত্রধারীদের পরিচয় শনাক্তে একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ১০-১২ সহযোগীবেষ্টিত অস্ত্রধারী এক যুবক প্রতিপক্ষের দিকে গুলি করতে উদ্যত হচ্ছে এবং অপর দুজন ধাওয়ার মুখে অস্ত্র হাতে অন্য সহযোগীদের সঙ্গে দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) ফেইসবুকে অস্ত্রধারীদের ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই দিন জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে সভা আহ্বানের অন্যতম নেতা নোয়্খালী পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু দেশ রূপান্তরকে জানান, সেদিন অস্ত্রধারীরা কোন দিক থেকে এসেছিল এবং কোনদিক দিয়ে পালিয়েছে সেটা বিশ্লেষণ করলেই বোঝা যাবে তারা কারা। আমাদের দাবি হলো, অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করুন, তাহলেই বোঝা যাবে তারা কাদের লোক। 

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন, ‘ভাইরাল হওয়া ভিডিওর অস্ত্রধারীরা এমপি সাহেবের লোকজন হতে পারে বা মামা বাহিনীর কারও হতে পারে’।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওইদিন পুলিশ এ্যসিস্ট করেছে তাদের (একরামুল করিম চৌধুরীর সমর্থকদের)। আমাদের করেনি। আমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তদন্ত করে বের করুক তারা কারা। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক’।   

এ বিষয়ে জানতে নোয়াখালী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করলেও ব্যস্ত পাওয়া যায় এবং সবশেষ তিনি ফোন কেটে দেন।  

তবে গণমাধ্যমের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সেদিনের তিনপক্ষের মিছিলে একপক্ষের অস্ত্র তাক করা ভাইরাল হওয়া ভিডিও আমরা পেয়েছি। এটা আমরা পর্যালোচনা করছি। এটি কার, কোথাকার, জায়গাটি কোনটি সেগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। আমাদের একাধিক টিম এটা নিয়ে কাজ করছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য নিশ্চিত হতে পারলেই মিডিয়াকে জানাব’।

রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলের দিকে নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীনের অনুসারীদের মধ্যে শহরের জামে মসজিদ মোড় এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা ও ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় একরামুল করিমের অনুসারীরা জামে মসজিদ মোড়ের উত্তর দিকে অবস্থান নেয়। একই সময়ে শাহীনের অনুসারীরা জামে মসজিদের দক্ষিণ দিকে জিলা স্কুলের সামনের সড়কে অবস্থান নেয়।

২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ঘোষিত কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের দাবিতে সোমবার সকাল ১০টায় জেলা শহরের কার্যালয়ে সমাবেশের ডাক দেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। একই সময় টাউন হল মোড়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশ আহ্বান করেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিহাব উদ্দিন শাহীন, একই সময়ে নোয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষে পৌর মিলনায়তনে আলোচনা সভা ডাকেন শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল।

একপর্যায়ে বিবদমান তিন পক্ষের অনুসারি নেতাকর্মীরা তাদের সোমবারের পাল্টাপাল্টি সমাবেশকে সফল করতে রোববার বিকেল থেকেই জেলা শহরে অবস্থান নেয়। এ সময় তিন পক্ষের অনুসারী নেতাকর্মীরা জেলা শহরে পথসভা, মিছিল করলে ত্রিমুখী উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিলে জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত