ভেঙে গেছে কংক্রিটের স্ল্যাব, মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে লোহার পাত, যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়েছে বছর পাঁচেক আগেই। তবুও হয়নি কোনো সংস্কার। বরগুনার আমতলী উপজেলার সাতধারা নামক স্থানে আড়পাঙ্গাশিয়া খালের ওপর লোহার সেতুটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেতু পারাপার হচ্ছে। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে অন্তত ১০ গ্রামের মানুষকে। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সেতুটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে আমতলী সদর ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা শহরে যোগাযোগের জন্য আড়পাঙ্গাশিয়া খালের ওপর ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। আমতলী সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ আমতলী, সাতধারা ও আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের পাতাকাটা, পূর্ব আড়পাঙ্গাশিয়া ও হুমা গ্রামসহ অন্তত ১০টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষ এবং দক্ষিণ আমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই সেতু। নির্মাণের পর দীর্ঘ ১৮ বছর অতিবাহিত হলেও সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, নড়বড়ে লোহার বিমের ওপর দাঁড়িয়ে আছে সেতুটি। সø্যাব খুলে খালে পড়ে আছে। সø্যাব না থাকায় সেতুর অনেক স্থানে ফাঁকা। সø্যাবের সিমেন্টের ঢালাই ক্ষয়ে গিয়ে রড বেরিয়ে পড়েছে। ফাঁকা স্থানগুলোতে আলগা সø্যাব আড়াআড়িভাবে বাসিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। সেতুর দু’পাশের লোহার রেলিং মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। নড়বড়ে সেতুতে মানুষ উঠলেই দুলে ওঠে।
সাতধারা গ্রামের জাকির হোসেন বলেন, ‘সেতুটির অবস্থা খুব খারাপ। সø্যাব ধসে পড়ে অনেক জায়গায় ফাঁকা হয়ে গেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হতে হয়।’ আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা বলেন, ‘ওই স্থানে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা জরুরি। এ বিষয়ে আমরা উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় কথা বলব।’
আমতলী সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘সেতুটি দ্রুত সংস্কার এখন দুই ইউনিয়নের মানুষের প্রাণের দাবি।’
এলজিইডি আমতলী কার্যালয়ের প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ওই স্থানে গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। এটি পাস হলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
