ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির আলোচিত হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুই আসামির পক্ষে এবার সাফাই গাইলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন এবং পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খোকন। সোনাগাজী পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে আলাদা দুটি মতবিনিময় সভায় তারা মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আলমকে নির্দোষ দাবি করেন। তাদের এ সংক্রান্ত বক্তব্যের দুটি ভিডিও ক্লিপ দেশ রূপান্তরের হাতে এসেছে।
যদিও ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসায় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন ও রফিকুল ইসলাম খোকন অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন। হঠাৎ তাদের অবস্থান পরিবর্তনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পৌর নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে রুহুল আমিন ও মকসুদ আলমের সমর্থকদের ভোট টানতে নিজেদের নৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন লিপটন ও খোকন। গত সোমবার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় নির্বাচনী
মতবিনিময় সভায় জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন বলেন, ‘যে মাদ্রাসায় দাঁড়িয়ে আমরা কথা বলছি সে মাদ্রাসার একটি ঘটনা আমাদের কপালে কলঙ্কের তিলক এঁকে দিয়েছে। যে তিলকটির কারণে আমাদের দুজন ভাই, আমাদের দুজন নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি রুহুল ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আলম বিনা দোষে কারাভোগ করছে।’ এ সময় মুহুর্মুহু সেøাগান দিয়ে তার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জোগান উপস্থিত নেতাকর্মীরা।
অন্যদিকে গত বুধবার বিকেলে মহিলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে নির্বাচনী সভায় পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘আমি চেয়েছি সিরাজ উদদৌলার বিচার হোক, কিন্তু মকসুদ আলম ভাই নির্দোষ, তিনি এমন কোনো অপরাধ করে নাই যার জন্য তার ফাঁসি হবে। আমি তার মুক্তির জন্য প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যাব।’
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। আলোচিত সে রায়ে মামলার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
