চীনকে মোকাবিলায় নতুন আরেক জোট

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০২:১৮ এএম

চীনের উত্থান মোকাবিলায় নিজেদের মধ্যে প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত প্রযুক্তি ভাগাভাগি করে নিতে একটি বিশেষ নিরাপত্তা জোটের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। গত বুধবার এ উপলক্ষে তিন দেশের মধ্যে বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তি হয়েছে। তিন দেশের এ জোটকে ডাকা হচ্ছে ‘অকাস’ নামে। চীনকে মোকাবিলা করতে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপান মিলে গঠিত হয়েছিল কোয়াড নামের আরেকটি জোট।

এদিকে নতুন জোটের বিষয়ে চীনের ভাষ্য, দেশগুলো ঠান্ডা যুদ্ধের মানসিকতা ও মতাদর্শগত গোঁড়ামি থেকে বের হতে পারেনি।

মানবাধিকার, পরিবেশ, হংকং নিয়ে চীনের মনোভাবের বিরোধী যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমল থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বেশি খারাপ হয়েছে দেশটির। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চীনের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু করেছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু পশ্চিমা দেশগুলো মনে করে, চীন আগ্রাসী আন্তর্জাতিক নীতি নিয়ে চলছে। যে কারণে তারা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও সামরিক উপস্থিতি নিয়ে চিন্তিত। তাই দেশগুলো মনে করছে চীনকে লাগাম পরাতে হবে। আর এজন্য নতুন চুক্তির আওতায় দেশগুলো নিজেদের মধ্যে পারমাণবিক সাবমেরিন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম ও সাইবার প্রযুক্তির বিনিময় করতে চায়।

বিবিসি বলছে, অকাস জোটের ফলে অস্ট্রেলিয়া প্রথমবারের মতো পারমাণবিক শক্তিধর সাবমেরিন বানানোর সুযোগ পেতে যাচ্ছে। অবশ্য নতুন এ জোটের কারণে অস্ট্রেলিয়াকে ২০১৬ সালে ফ্রান্সের সঙ্গে ১২টি সাবমেরিন বানাতে করা ৫ হাজার কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের একটি চুক্তি বাতিল করতে হয়েছে। ফ্রান্স এমন পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছে। নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার নতুন পারমাণবিক শক্তিধর সাবমেরিন যেন তাদের জলসীমা থেকে দূরে থাকে।

গত বুধবার জো বাইডেন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অকাসের অধীনে নেওয়া প্রথম উদ্যোগে, অস্ট্রেলিয়ার রাজকীয় নৌবাহিনীর জন্য পারমাণবিক শক্তিধর সাবমেরিন পেতে অস্ট্রেলিয়ার আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তাদের এই সক্ষমতা ইন্দো-প্যাসিফিকে স্থিতিশীলতা বাড়াবে। আমাদের যৌথ মূল্যবোধ ও স্বার্থের সমর্থনে এগুলো (সাবমেরিন) মোতায়েন করা হবে।

নতুন এ প্রতিরক্ষা জোট সাইবার সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ‘সমুদ্রের তলদেশে অতিরিক্ত সক্ষমতার’ ওপরও নজর দেবে, বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

ভার্চুয়াল বৈঠকে জো বাইডেন বলেছেন, ‘আজ আমরা একটা ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছি। এর ফলে তিন দেশের সম্পর্ক আরও জোরালো হবে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা দীর্ঘস্থায়ী হবে।’

জনসন বলেছেন, যে তিন দেশ মিলে অকাস করেছে, তারা একে অপরের স্বাভাবিক মিত্র এবং নতুন এ জোট তাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসবে। তার ভাষ্য, এ অংশীদারিত্ব তার দেশের স্বার্থ ও জনগণের সুরক্ষায় ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

স্কট মরিসন বলেছেন, ‘অ্যাডিলেডে সাবমেরিন বানানো হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সাহায্য করবে। অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীকেও শক্তিশালী করা হচ্ছে। তাদের হাতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত