মেঝেতে টাইলস না রং এই সিদ্ধান্ত নিতেই দুই মাস

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৪৫ পিএম

মেঝেতে টাইলস না রং দেওয়া হবে দুই মাসেও এ সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি হবিগঞ্জের গণপূর্ত বিভাগ। তাদের এ গাফিলতির কারণে পিসিআর ল্যাবের কাজ শেষ পর্যায়ে এসে থেমে গেছে। এজন্য করোনা শনাক্তে এখনো সিলেটের ওপর নির্ভরশীল হবিগঞ্জবাসীর কমপক্ষে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হচ্ছে রিপোর্টের জন্য। 

পিসিআর ল্যাব কোথায় স্থাপন করা হবে- এ নিয়ে নানা ঝামেলা কাটিয়ে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের পরিত্যক্ত ‘সংক্রমণ ওয়ার্ডে’ পিসিআর ল্যাব স্থাপনে সিদ্ধান্ত হয়। ল্যাবের উপযোগী করার জন্য গত ৩০ জুন কার্যাদেশ দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জালাল এন্টারপ্রাইজকে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ওই কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। ১৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য সময় দেওয়া হলেও ঠিকাদার ৮৫ ভাগ কাজ শেষ করে ফেলে রেখেছেন।

কাজটি দেখভালের দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিপন দেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ল্যাবের মেঝেতে ১৬ বাই ১৬ ইঞ্চি ‘হোমোজিনাস টাইলস’ লাগানোর কথা থাকলেও পরে প্রত্যাশী সংস্থা ২৪ বাই ২৪ ইঞ্চি মিরর পলিশ টাইলসের দাবি করায় সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে।

এদিকে গণপূর্ত বিভাগের একটি সূত্র জানায়, মেঝেতে কী লাগানো হবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলীরা একেকবার একেক ধরনের সিদ্ধান্ত নেন। একবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এপস্ক্রি (একধরনের ফ্লোর পেইন্ট) ব্যবহারের। পরে তা থেকে সরে টাইলস লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু দুই মাসেও তারা পাকাপোক্ত কোনো সিদ্ধান্তে  পৌঁছতে পারেননি।

গত বৃহস্পতিবার পিসিআর ল্যাবটি ঘুরে দেখা যায়, ছোট ছোট ৬টি কক্ষ ও ৪টি ওয়াশরুম, সিলিংয়ে প্লাস্টিকের বোর্ড স্থাপন, বৈদ্যুতিক কাজসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। সেখানে দাঁড়িয়ে কথা হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি অজিজুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, করোনা শনাক্তে জেলাবাসীর জন্য ল্যাবটি খুবই জরুরি। তাই নির্ধারিত সময়ের আগেই যাতে কাজ শেষ হয় এজন্য দিনরাত শ্রমিক লাগিয়ে ৮৫ ভাগ কাজ শেষ করতে পেরেছি। কিন্তু মেঝেতে কী লাগানো হবে, দেয়ালে কী রং লাগাব এ ব্যাপারে গণপূর্ত বিভাগের কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় বাকি কাজ শেষ করতে পারছি না।

যোগাযোগ করা হলে সিভিল সার্জন মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পিসিআরের বিষয়টি আমি জানি না। তিনি শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক ডা. আরিফুন্নবী বলেন, আগে পূর্ত বিভাগের কাজ শেষ হোক। তারপর মেশিনপত্র আসবে, লোকবল নিয়োগ হবে। এরপর পিসিআর কার্যক্রম শুরু হবে। 

যোগাযোগ করা হলে হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, পিসিআর ল্যাবটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে হচ্ছে। মেঝেতে কী লাগালে ভালো হবে এ সিদ্ধান্ত নিতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে খুব শিগগিরই মেঝেতে মিরর পলিশ টাইলস লাগানোর কাজ শেষ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত