দন্ডিতের অভিন্ন সাজার নীতিমালা নিয়ে রুল

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:০৩ এএম

কোনো মামলায় দদন্ডিত ব্যক্তির অপরাধের সাজা নির্ধারণে অভিন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা (সেনটেনসিং গাইডলাইন) প্রণয়নের প্রশ্নে রুল দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ বিষয়ে করা একটি রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশ মোতাবেক দেশে অভিন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ‘সেনটেনসিং গাইডলাইন’ করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে সেটি জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার শাখার সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যানকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আবেদনের পক্ষে তিনি শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

শিশির মনির বলেন, ‘গত বছর ১ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ একটি রায়ে বলা হয় যাবজ্জীবন মানে ৩০ বছরের কারাদদন্ড। তবে কোনো আদালত চাইলে আমৃত্যু কারাদ- দিতে পারবে। এ রায়ের পর্যবেক্ষণে দদন্ডিত ব্যক্তির সাজা নির্ধারণে অভিন্ন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা বা সেনটেনসিং গাইডলাইনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। এর ভিত্তিতে এ রিট আবেদনটি করা হয়। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দিয়েছে।’

তিনি  দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একজন মানুষ দোষীসাব্যস্ত হওয়ার পর তার কতটুকু সাজা হবে এটা দদন্ডবিধির আইনে বিভিন্ন মাত্রা দেওয়া আছে। যেমন কোনো মামলায় ন্যূনতম ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কথা বলা আছে। কিংবা কোনো মামলায় মৃত্যুদদন্ড কিংবা যাবজ্জীবন কারাদন্ড হবে। এখন ৫ বছর এবং ১৫ বছরের মধ্যে তো আরও ১০ বছর রয়েছে। এখন এটার মধ্যে সামঞ্জস্যটা কীভাবে হবে, কী কী ফ্যাক্টর থাকলে ৭ বছর কিংবা ১০ বছর হবে কিংবা ১৫ বছর হবে এগুলো আমাদের আইনের কোথাও নেই।’

এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালাও নেই। ফলে বিচারক তার বিবেচনায় সাজা দেন। এ নীতিমালা থাকলে সামঞ্জস্যতা এবং সাজার ক্ষেত্রে সুষমতা নিশ্চিত হবে। আদালত আমাদের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে রুল দিয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত