নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় প্রেমের স্বীকৃতি না পেয়ে গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়েছে (২৭) নামে এক নারী। এ ঘটনায় উপজেলার আটিগ্রামের মো. দিলুকে (৪০) প্রধান ও আরও চারজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা অভিযোগ এনে ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযুক্তরা হলেন- কেন্দুয়া উপজেলার আটিগ্রামের মো. দিলু (৪০), একই উপজেলার পাইসামকা গ্রামের কামাল মিয়া (৩২), দুলাল মিয়া (৫৫), স্বপন মিয়া (৪৫) এবং তাজু মিয়া (৪৫)।
রবিবার দুপুরে অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ।
অভিযোগে জানা যায়, স্ত্রী ও সন্তান থাকা সত্ত্বেও মো. দিলু কৌশলে ভিকটিমের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করেন। এই সম্পর্কের মাধ্যমে দিলু তার নিজ বসত ঘরে অনুমান ছয় মাস পূর্ব হতে পর্যায়ক্রমে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে ভিকটিমকে। এলাকায় তাদের প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হলে ভিকটিম গাজীপুরে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকেন। সেখানেও বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ করেন দিলু। ভিকটিম বিয়ের জন্য চাপ দিলে কালক্ষেপণ করতে থাকেন।
আরও জানা যায়, অন্যান্য অভিযুক্তদের সহায়তায় ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ভিকটিম নিরুপায় হয়ে কলঙ্কের ভয়ে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে দিলুর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দেন। পরে দিলু অন্যান্য অভিযুক্তদের সহায়তায় ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে বোতলে করে আনা পেট্রল ভিকটিমের শরীরে ঢেলে দেয় এবং কামাল মিয়া দেশলাই দিয়ে ভিকটিমের শরীরের আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ভিকটিমের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্নস্থান আগুনে ঝলসে যায়।
কেন্দুয়া থানার ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ জানান, বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের জটিলায় অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘প্রেমের স্বীকৃতি না পেয়ে নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দিল প্রেমিকা’ শিরোনামে গত ২৩ সেপ্টেম্বর দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
সেসময় কেন্দুয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) সৈয়দ আব্দুল্লাহ গালিব জানিয়েছিলেন, ভিকটিমের মুখমণ্ডল, দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩০ শতাংশের বেশি পুড়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
