করোনায় মৃত মোস্তাফিজুর রহমান আলমগীর নামে এক ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করে ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ঢাকার একটি আদালতে।
আসামিরা হলেন- পূবালী ব্যাংক লি. চকবাজার শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ প্রধান এবং সহকরী জেনারেল ম্যানেজার মো. রফিকুল ইসলাম।
সোমবার বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরার আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে সিআইডিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বাদীর ছোট বোন রাবেয়া আক্তারের স্বামী মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে বিয়ের আগে এ মামলার আসামি শরীফ প্রধানের স্ত্রীর বড় বোন নাজমা আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু নাজমা আক্তার ২০১৮ সালে নিঃসন্তান থেকে মারা যান।
গত বছর ২৯ ফেব্রুয়ারি রাবেয়া আক্তারের সঙ্গে মোস্তাফিজুর রহমানের বিয়ে হয়। মোস্তাফিজুর রহমান নাজিরা বাজারে পপুলার সাইকেল মাঠ নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হয়ে সাইকেল পার্টস ব্যবসা করার সময় এ মামলার সাক্ষী বিল্লাল হোসেনের কাছে ব্যবসায়িকভাবে ৩৭ লাখ টাকা পাওনা হন।
বিল্লাল হোসেন ৩৭ লাখ টাকার চেক মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রদান করেন। চেকটি পেয়ে মোস্তাফিজুর রহমান পূবালী ব্যাংকের চকবাজার শাখায় যান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামি শরীফ প্রধানের সঙ্গে দেখা করে চেকটি প্রদান করেন মোস্তাফিজুর রহমান। সেদিন গত ২১ মার্চ সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়েন মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি চেকটি শরীফ প্রধানের কাছে রেখে চলে আসেন।
পরে তার করোনা পজিটিভ হয়। অসুস্থ অবস্থায় মোস্তাফিজুর রহমান চেকের বিষয়টি তার স্ত্রী রাবেয়া আক্তারকে জানান। গত ২৫ মার্চ মোস্তাফিজুর রহমান মারা যান।
পরে এ বিষয়ে এ মামলার বাদী বংশাল থানায় একটি জিডি করেন। জিডি তদন্তে শরীফ প্রধান মোস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষর জাল করে রফিকুল ইসলামের সহযোগিতায় ৩৭ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন মর্মে উঠে আসে।
