চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদে নালায় পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার ১০টার দিকে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় পা পিছলে পাশের একটি নালায় পড়ে যান সেহেরীন মাহবুব সাদিয়া (১৯) নামের ওই ছাত্রী। এর প্রায় সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এই ঘটনার জন্য অবশ্য সিটি মেয়র দায়ী করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষকে।
পুলিশ জানায়, সাদিয়া আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। তিনি হালিশহর থানার বড়পোল এলাকার প্রবাসী মোহাম্মদ আলীর মেয়ে। সোমবার সাদিয়া তার মামা জাকির হোসেনের সঙ্গে আগ্রাবাদ শাহজালাল চশমা মার্কেটে চশমা কিনতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে মাজার গেট এলাকায় নালায় পড়ে যান সাদিয়া। মামা জাকির হোসেনও তাৎক্ষণিকভাবেই লাফিয়ে পড়েন। কিন্তু সাদিয়াকে পাননি তিনি। প্রবল স্রোত তাকে টেনে নিয়ে যায়। প্রায় ৫ ঘণ্টা পরে ৩০ গজ দূরে থেকে নালায় আটকে থাকা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
ঘটনাস্থলে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সড়কের পাশে থাকা ফুটপাতের নিচে বড় নালা। এই নালার ওপর কোনো স্ল্যাব ছিল না। চলমান এলিভেটেড এক্সপ্রেস নির্মাণকাজের কারণে ওই সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। স্ল্যাব না থাকায় নালা নাকি গর্ত বোঝা যায়নি। হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ করে নালায় পড়ে গিয়েছিল মেয়েটি।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া বলেন, রাত ৩টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে। তাদের কাছ থেকে মেয়েটিকে স্থানীয়রা পার্শ্ববর্তী ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ওই ছাত্রীর বাসা হালিশহরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে গত ২৫ আগস্ট বৃষ্টির মধ্যে নগরীর মুরাদপুরে নালায় পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন সালেহ আহমদ নামে এক বৃদ্ধ। ফায়ার সার্ভিস দফায় দফায় উদ্ধার অভিযান চালালেও গত এক মাসেও তার হদিস পাওয়া যায়নি।
সিডিএকে দুষলেন সিটি মেয়র : এদিকে খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। দুর্ঘটনাস্থলে ফুটপাতসংলগ্ন নালায় স্ল্যাব ও ঘেরা না থাকায় মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। এ সময় সিটি মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখানে সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলছে। রাস্তায় গর্ত হয়েছে। ফুটপাতের ওপর কাদা জমেছে। বৃষ্টির পর সেই কাদা পিচ্ছিল হয়ে গিয়েছিল। কাদার ওপর পা পড়ার পর পিছলে মেয়েটি নালায় পড়ে গেছে বলে শুনেছি। এখানে যারা প্রকল্পের কাজ করছে, তাদের সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। পানিতে রাস্তা এবং নালা এক হয়ে গেছে, মানুষ বুঝবে কীভাবে? খুঁটি গেড়ে লাল পতাকা টানিয়ে দিলেও তো মানুষ সতর্ক হতে পারত। কিছুটা অবহেলা আছে। অবশ্যই আছে। যারা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ করছে তাদের অবহেলা আছে।’
‘ফুটপাতে স্ল্যাব ও রেলিং দেওয়ার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের’ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিলে সিটি মেয়র বলেন, ‘দেওয়ানহাট থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের যে কাজ চলছে, এগুলো সিটি করপোরেশনের আওতায় নেই এখন। এটার মেইনটেন্যান্স থেকে শুরু করে সবকিছু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষের দায়িত্ব। আমি কয়েক দিন আগেও সিডিএ’র চেয়ারম্যানকে টেলিফোন করে অনুরোধ করেছি। তারপর থেকে ওনার নির্দেশে গর্তে কিছু ভাঙা ইট দিয়েছে। আমি মনে করি, অবহেলা ও অসতর্কতার জন্য এই দুর্ঘটনাটা ঘটেছে।
