আইনিভাবে নিজের জীবনের পর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছেন গায়িকা ব্রিটনি স্পিয়ার্স। বুধবার তিনি এ বিষয়ে রায় পান।
সিএনএন জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেসের একজন বিচারক জেমি স্পিয়ার্সের বিরুদ্ধে রায় দেন। তাকে ব্রিটনির সম্পত্তির তত্ত্বাবধায়কের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
জেমিকে ‘নিষ্ঠুর, বিষাক্ত ও নিপীড়ক’ হিসেবে বর্ণনা করেন ব্রিটনির আইনজীবী ম্যাথু রোজেনগার্ট। আরও জানান, তার মক্কেল চান ‘আজই’ যেন জেমি চলে যান।
রোজেনগার্ট বলেন, আগামীকাল ঘুম থেকে ওঠে বাবাকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দেখতে চান না ব্রিটনি।
জেমির বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমে একাধিক অভিযোগ আনেন রোজেনগার্ট। এমনকি মেয়ের বেডরুমে রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের কথাও বলেন। তবে গায়িকার বাবার আইনজীবী এমন অভিযোগকে ‘কথার কথা’ বলে উল্লেখ করেন।
বুধবারের শুনানিতে ব্রিটনি হাজির ছিলেন না। আইনজীবীর মাধ্যমে তিনি নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। বাবার খবরদারি থেকে ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে মুক্তির সুযোগ চান তিনি। আদালত ব্রিটনি অনুরোধ বিবেচনা করে ১২ নভেম্বর শুনানির দিন ধার্য করেছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত শুনানি হবে ১৩ ডিসেম্বর।
গত কয়েক মাস ধরে বাবার বিরুদ্ধে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন এক সময়ের হিট গায়িকা। জুনে বলেছিলেন, আমি আমার জীবন ফিরে চাই। ১৩ বছর কেটে গেছে এবং যথেষ্ট হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে ব্রিটনির নিয়ন্ত্রণ তার বাবার ওপর দিয়েছিল আদালত।
আদালত নির্দেশিত চুক্তি মোতাবেক জেমি মেয়ের সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ন্ত্রণের অধিকার পান। কিন্তু ব্রিটনি ‘দায়িত্বের অপব্যবহারের’ অভিযোগ এনে পরবর্তীতে জেমিকে সরানোর দাবি তোলেন।
জেমি বারবারই মেয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেন। জানান, ব্রিটনির ভালোর জন্য সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিনি।
২০১৯ সালে শারীরিক কারণে মেয়ের ব্যক্তিগত জিম্মা ছেড়ে দেন জোডি মন্টগোমেরির হাতে। তবে সম্পত্তির দেখভালের দায়িত্ব জেমির হাতেই ছিল। কিন্তু সেখান থেকেও সরাতে গত জুলাইয়ে আবেদন করেন গায়িকা।
মাস খানেক আগে ৩৯ বছরের ব্রিটনি বিচারকের কাছে অভিযোগ করেন, তাকে মাদকাসক্ত করা হয়েছিল, ইচ্ছার বিরুদ্ধে পারফর্ম করতে বাধ্য করা হয় এবং গর্ভধারণে বাধা দেওয়া হয়।
বুধবার আদালতের বাইরে ভিড় করেন ব্রিটনির অনুরাগীরা। তারা সেখানে গায়িকার আইনি বিজয়ী উদ্যাপন করেন। ব্রিটনির প্রেমিক স্যাম আসঘারি এ বিজয়ের জন্য অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানান। তাদের কারণে এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে ইনস্টাগ্রামে উল্লেখ করেন।
একাধিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৮ সাল থেকে নিজের ওপর থেকে অভিভাবকত্ব হারান ব্রিটনি স্পিয়ার্স। তখন জেমি স্পিয়ার্স আনুমানিক ৬ কোটি ডলার সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পান। বিষয়টি মানতে না পারায় ২০১৭ সাল থেকে পারফর্ম করছেন না ব্রিটনি।
