রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ১ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ব্যয় হবে ৬৩৬ কোটি টাকা

সমুদ্র থেকে ১০ হাজার হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধারে ক্রস ড্যাম নির্মাণ

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৫ এএম

নোয়াখালীর উড়িরচরকে মূল ভূখন্ডের সঙ্গে স্থায়ী যোগাযোগ স্থাপন করতে ২ কিলোমিটার ক্রস ড্যাম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে সমুদ্র থেকে ১০ হাজার হেক্টর ভূমি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এজন্য ৬৩৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিতে চায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ ৪ বছরে এর কাজ শেষ হবে।

পাউবো বলছে, ভূমি পুনরুদ্ধার ছাড়াও এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনসাধারণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা যাবে। এছাড়া কৃষিজমির পরিমাণ বৃদ্ধি, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সর্বোপরি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।

প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রস্তাবনাতে (ডিপিপি) বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে মোট ৬৩৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে চলতি বছর থেকে ২০২৫ সালের জুন নাগাদ বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। পাউবো জানায়, মেঘনা নদীর মোহনায় নদীভাঙন ও ভূমি পুনরুদ্ধার ক্রমান্বয়ে চলমান একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। মেঘনা নদীর মোহনায় বর্তমানে প্রতি বছর প্রচুর জমি বিলীন হচ্ছে। এ জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ জরুরি।

প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ২ কিলোমিটার ক্রসড্যাম নির্মাণ, ৬ কিলোমিটার টাই বাঁধ নির্মাণ, ৩০ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ বা ক্রয় করা হবে। প্রকল্পে বৈদেশিক ব্যয় বাবদ ১ কোটি ২৮ লাখ টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু তা কমিয়ে ৭৫ লাখ টাকা করার পরামর্শ দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) রমেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি প্রকল্পটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেশ কিছু সংশোধনী আনতে বলা হয়েছে।  

পিইসি সভার কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, সভায় বৈদেশিক প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এখানে শুধু একটি দেশে (নেদারল্যান্ডস) প্রশিক্ষণের আয়োজনের ব্যাপারে মত দেওয়া হয়। অর্থ বিভাগের একজন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করে এ খাতে ব্যয় ৭৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বিস্তারিত ব্যয় বিভাজন ডিপিপিতে উল্লেখ করার বিষয়ে একমত পোষণ করা হয়।

রাজস্ব খাতে প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় সম্পর্কে সভায় পর্যালোচনা করা হয়। গ্যাস ও জ্বালানি খাতে ব্যয় বাবদ ১০ লাখ টাকা সংস্থান রাখার বিষয়টি অপ্রয়োজনীয় বলে প্রতীয়মান হয়। কাজেই এই ব্যয় বাদ দেওয়ার বিষয়ে সভায় একমত পোষণ করা হয়। পেট্রল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট বাবদ ব্যয় ১৬ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১০ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

প্রকল্পের অতিরিক্ত ১০ শতাংশ বর্ধিত ব্যয় ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা বাদ দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রাইস কন্টিনজেন্সি থেকে অতিরিক্ত ব্যয় মেটানো যেতে পারে বলে মত দেয় পরিকল্পনা কমিশন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত