শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নৌকা পেতে ব্যস্ত সরকারি চাকরিজীবী

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৭ পিএম

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে নেমেছেন একজন স্বাস্থ্য পরিদর্শক। সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে প্রচারে নামায় এ নিয়ে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। 

এ ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা স্বাস্থ্য পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম খোকন শুক্রবার নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। এ সময় এলাকার বিভিন্ন দোকান, পাড়া মহল্লা ঘুরে তিনি নৌকা প্রত্যাশী চেয়ারম্যান হিসেবে সবার কাছে দোয়া চান। পরে নির্বাচনী প্রচারের বিষয়টি তার নিজের ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার পর শুরু হয়েছে বিতর্ক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজহারুল ইসলাম খোকন মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য পরিদর্শক হিসেবে গত মাসের ২৮ সেপ্টেম্বর গণটিকা দেয়ার দিন অফিস করেছেন। সরকারি চাকরির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে অনেক দিন বিভিন্ন উৎসবের শুভেচ্ছা পোস্টার প্রচার করেছেন। এসব পোস্টারেও ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হিসেবে সবার দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন বলে তথ্য স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

রবিবার দুপুরে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন কমিশন বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরি করা অবস্থায় কোনো নির্বাচনের প্রচারণা চালানো যাবে না। এমনকি চাকরি ছাড়ার তিন বছরের মধ্যে কেউ কোনো নির্বাচনের প্রার্থী হতে পারবেন না।

কিন্তু স্বাস্থ্য পরিদর্শক আজহারুল ইসলাম এসব নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে সরকারি চাকরিরত অবস্থায় চালিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার। পোস্টার ব্যানারে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান মইনুল হক কাসেম ও সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ আলী খান খসরুর ছবি ব্যবহার করেছেন। ইতিমধ্যে নৌকা পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন উচ্চমহলে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আজহারুল ইসলাম খোকন বলেন, একমাস আগেই সরকারি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে গিয়েছি। গতকাল (শনিবার) দলীয় মনোনয়নের আবেদন জমা দিয়েছি। সরকারি চাকরিজীবিরা পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ বিষয়ে না জানা থাকলে নির্বাচন অফিসে খবর নেন।

মোহনগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নূর মোহাম্মদ শামছূল আলাম বলেন, আজাহারুল ইসলাম গতকাল (শনিবার) ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন। তা স্বাক্ষর করে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করিছি।

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিন্নাত আরা জানান, সরকারি চাকরিজীবীরা অবসরে যাওয়ার নূন্যতম তিন বছর পর প্রার্থী হতে পারবেন।

বারহাট্টার ইউএনও এসএম মাজহারুল ইসলাম জানান, সরকারি চাকরিজীবী নির্দিষ্ট সময়ের পরে অবসরের পরে নির্বাচন করতে পারবে। এক বা তিন বছর নির্দিষ্ট সময়কালটি এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে এক্ষেত্রে মনোয়ন বাতিল হয়ে যেতে পারে। মনোয়নপত্র দাখিলের পরে আমরা সর্টিং করি। প্রার্থী ঋণখেলাপি, সাজাপ্রাপ্ত মামলার আসামি, তার বিরুদ্ধে রিপোর্ট আছে কিনা এসব বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হয় প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত