সাত খালের তীর রক্ষায় ৪৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২১, ১১:০০ পিএম

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এরই অংশ হিসেবে সাতটি খালের ১২ দশমিক ২৬ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে ৪৭৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে পাউবো চট্টগ্রাম ডিভিশন-১।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, ‘দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া উপজেলার টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এ প্রকল্পের অধীনে সাতটি খালের তীর সংরক্ষণ করা হবে। এর মধ্যে সাঙ্গু নদীর ৪ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ ও শূন্য দশমিক ৯৩ কিলোমিটার নদীর মেরামত, টংকাবতী নদীর ২ দশমিক ৭, হাঙ্গর নদীর ১ দশমিক ১, ডলু নদীর ১ দশমিক ৮৭, সুখছড়ি নদীর শূন্য দশমিক ৪, বরুমতি খালের শূন্য দশমিক ৪ ও ধোপাছড়ি খালের শূন্য দশমিক ৪ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণে কাজ করা হবে। তিন বছরের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তিন উপজেলায় বিদ্যমান সাতটি খালের ভাঙনরোধ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে খালের পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতা হবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে বয়ে এসেছে সাঙ্গু নদী। বৃষ্টি হলেই এ নদীতে পাহাড়ি ঢল নামে। এতে সাঙ্গুর পার্শ্ববর্তী বিশেষ করে পাড় ভাঙা রয়েছে এমন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মানুষের চলাচলে বিঘ্নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসলি জমি। একইভাবে ডলু, টংকাবতী, সুখছড়ি নদী এবং বরুমতি ও ধোপাছড়ি খালের অধিকাংশ পাড় ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা এলেই পার্শ্ববর্তী এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে দুর্ভোগে পড়ে লাখো মানুষ।

এ বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী (ডিভিশন-১) তয়ন কুমার ত্রিপুরা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পটি নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পিপিপি প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় তিন উপজেলার সাতটি খালের ভাঙনরোধে ব্লক বসানো হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ শেষে নদী-খালের পাড় ভেঙে যে জলাবদ্ধতা হয়, সেটি হবে না। ফলে তিন উপজেলার লাখো মানুষ জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত