ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত চিত্র উঠে আসছে না

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২১, ০১:১১ এএম

ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানের চেয়ে অনেক বেশি হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুধু ৪১টি হাসপাতালের কেস রেকর্ড করেছে। প্রকৃত চিত্র পেতে হলে সারা দেশের সব হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীর তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। দেশে অনুমোদিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ৯ হাজার। এর মধ্যে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার ৮০০। এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডেঙ্গু পজিটিভ রোগীর সংখ্যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠালে তা কয়েকশ গুণ বেশি রোগী হবে বলে ধারণা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

কীটতত্ত্ববিদদের মতে, ডেঙ্গু জ্বর একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস ইজিপ্টি মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। শরীরে তীব্র ব্যথা সৃষ্টির কারণে এর ডাকনাম ‘ব্রেকবোন ফিভার’। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের বাহক এডিস মশাকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে নির্মূল করতে সংক্রমণের সঠিক সংখ্যা জানা অত্যন্ত জরুরি।

কীটতত্ত্ববিদরা বলছেন, ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে; কিন্তু এত দিনে সংক্রমণের সঠিক তথ্য সরকার রাখতে পারেনি। এমনকি কোনো ‘অটোমেশন সিস্টেম’ চালু করতে পারেনি, যার মাধ্যমে ডেঙ্গু আক্রান্তের সঠিক সংখ্যা পাওয়া যাবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতির স্পষ্ট চিত্র না পাওয়া গেলে এর নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হবে।

কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার দেশ রূপান্তরে বলেন, ‘যেভাবে সরকার করোনা পজিটিভ রোগীর হিসাব রাখে ঠিক সেভাবেই ডেঙ্গু রোগীর তথ্য রাখতে হবে। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের পজিটিভ রোগীর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতেই সব ডেঙ্গু সংক্রমণের ঘটনা চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি রোগীদের ঘর, কর্মস্থল ও আশপাশে মশা নিধন অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যদি কর্র্তৃপক্ষ মশার প্রজনন হটস্পট ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। তাই সংক্রমণ রেকর্ড করার জন্য অটোমেশন সিস্টেম চালু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ২০৮ জন ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের সাত দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৩৪৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ১৭৩ জন এবং ঢাকার বাইরের হাসপাতালে ৩৫ জন ভর্তি হয়েছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ৮৭৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ৭১৬ জন এবং ঢাকার বাইরে ১৫৭ জন রয়েছে। চলতি বছর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছে ১৯ হাজার ৫৪৪ জন ডেঙ্গু রোগী। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৮ হাজার ৫৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২০৮ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৩৭ জন। এর আগে সেপ্টেম্বরে ভর্তি হয়েছে ৭ হাজার ৮৪১ জন। আগস্ট মাসে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। এরও আগে জুলাই মাসে ২ হাজার ২৪৬, জুন মাসে ২৭২, মে মাসে ৪৩, এপ্রিলে ৩, মার্চে ১৩, ফেব্রুয়ারিতে ৯, জানুয়ারিতে ৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়।

এ বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। জুলাই থেকে রোগী বাড়ার পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনা শুরু হয়। গত আড়াই মাসেই ৭৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে অক্টোবরে ৪, সেপ্টেম্বরে ২৩, আগস্টে ৩৪ ও জুলাইয়ে ১২ জন মারা গেছে। চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৭৩ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৮, চট্টগ্রাম বিভাগে ২, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে ১ জন করে মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে শূন্য থেকে ১ বছরের মধ্যে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, ১ থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৬, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ১৯ দশমিক ১, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২২ দশমিক ৮, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ১৩ দশমিক ৬, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১৩ দশমিক ১, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৬ দশমিক ২ এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত