মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বীকৃতি দুই সাংবাদিকের

আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২১, ০১:৩২ এএম

মতপ্রকাশের স্বাধীনতার লক্ষ্যে লড়াইয়ে স্বীকৃতি হিসেবে এবারের শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন দুই সাংবাদিক। গতকাল শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি

শান্তিতে এবারের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে ফিলিপাইনের মারিয়া রেসা ও রাশিয়ার দিমিত্রি মুরাতভের নাম ঘোষণা করে। এর আগে ১৯৩৫ সালে সাংবাদিকতার জন্য নোবেল জিতেছিলেন জার্মান সাংবাদিক কার্ল ফন অসিয়েতস্কি। এ বছর ৩২৯ জনের তালিকা থেকে এ দুজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এ পুরস্কারের ১ কোটি সুইডিশ ক্রোনার তারা সমান ভাগ করে নেবেন।

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানিয়েছে, মারিয়া রেসা ও দিমিত্রি মুরাতভ ফিলিপাইন এবং রাশিয়ায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় সাহসী লড়াইয়ের জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন। নোবেল কমিটি এ সাংবাদিক যুগলকে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামরত সব সাংবাদিকের প্রতিনিধি’ উল্লেখ করেছে।

মারিয়া রেসার জন্ম ১৯৬৩ সালের ২ অক্টোবর ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায়। মারিয়া রেসা র‌্যাপলার নামে একটি সংবাদ সাইটের সহপ্রতিষ্ঠাতা। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সভাপতি বেরিট রিস-এন্ডারসেন বলেন, মারিয়া মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আদর্শ সমুন্নত রেখে তার নিজের দেশ ফিলিপাইনে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, ঊর্ধ্বমুখী সহিংসতা এবং ক্রমবর্ধমান কর্র্তৃত্বপরায়ণতার’ খবর প্রকাশ করেন।

দিমিত্রি মুরাতভের জন্ম রাশিয়ায় সামারায় ১৯৬১ সালে। মুরাতভ নিরপেক্ষ সংবাদপত্র নোভোজা গেজেটার সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ২৪ বছর ধরে পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক। নোবেল কমিটি বলেছে, রাশিয়ায় ক্রমেই আরও চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠা পরিবেশেও মুরাতভ কয়েক দশক ধরে বাকস্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে লড়াই করে গেছেন। নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, মুরাতভের মুক্ত, নিরপেক্ষ এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা ক্ষমতার অপব্যবহার, মিথ্যা প্রচার এবং যুদ্ধ প্রচারণা রুখতে সাহায্য করে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাকস্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সফলভাবে সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা, নিরস্ত্রীকরণ এবং আমাদের জীবদ্দশায় একটা উন্নত বিশ্ব গড়ে তোলা কঠিন।

গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিল জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি। ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই এবং শান্তির পক্ষে পরিস্থিতি উন্নত করতে সংস্থাটির কাজের জন্য তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে নোবেল জয়ের প্রতিক্রিয়ায় র‌্যাপলারের একটি লাইভ সম্প্রচারে মারিয়া রেসা বলেন, ‘আমি এটা ভাবতেই পারছি না। এ বিজয় এটাই প্রমাণ করেছে যে, তথ্য ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়... তথ্যবিহীন বিশ্বের অর্থ সত্য ও আস্থাবিহীন পৃথিবী।’

জনপ্রিয় টেলিগ্রাম চ্যানেল পডিওমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুরাতভ বলেছেন, ‘আমি হাসছি। আমি এটা আশাই করিনি।’ তিনি এ পুরস্কারকে বর্ণনা করেছেন রুশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে উচিত জবাব হিসেবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত