সোনাগাজীতে সহোদরের কান্ড, গ্রামপুলিশসহ আহত ৫

টিকা দিতে দেরি হওয়ায় কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ১২:০৮ এএম

ফেনীর সোনাগাজীতে টিকাদান কেন্দ্রে করোনাভাইরাসের টিকা দিতে দেরি হওয়ায় হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্রম চন্দ্র মজুমদার ও বিনয় চন্দ্র মজুমদার নামে সহোদর। তাদের হামলায় গ্রামপুলিশের দুই সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত শনিবার দুপুরে উপজেলার মঙ্গলকান্দি ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

পরে স্থানীয়রা হামলাকারীদের আটক করে পুলিশে দেয়। এরপর রাতে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাসের সমঝোতায় স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় দুই ভাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিক্রম ও বিনয় উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিকারী এলাকার চন্দ্রসয় মজুমদারের ছেলে।

আহতরা হলেন মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশ নাছির উদ্দিন, মো. শিমুল, স্বেচ্ছাসেবক মো. মুরাদ ও দুজন টিকাপ্রত্যাশী।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার সকাল থেকে শত শত নারী-পুরুষ করোনার টিকা নিতে হাসপাতালের মাঠে জড়ো হয়ে লাইনে দাঁড়ায়। সকাল ৯টার টিকা দেওয়া শুরু হয়। বেলা ১১টার দিকে বিক্রম ও বিনয় টিকাকেন্দ্রে গিয়ে লাইনে না দাঁড়িয়ে সরাসরি টিকার বুথে যেতে বিশৃঙ্খলা শুরু করে। এ সময় দায়িত্বে থাকা গ্রামপুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে বলে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্রম ও বিনয় গ্রামপুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে বাগ্বিত-তায় জড়িয়ে পড়ে এবং হাসপাতালের একটি দরজা, তিনটি জানালা ও একটি আলমিরা ভাঙচুর করে।  দুই ভাইকে বাধা দিতে গিয়ে গ্রামপুলিশের দুই সদস্য ও একজন স্বেচ্ছাসেবকসহ পাঁচজন আহত হন। এ সময় টিকাদান বন্ধ ছিল। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর আবারও টিকাদান শুরু হয়। আহতরা স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন বলেন, টিকা নিতে আসা বিক্রম ও বিনয়কে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে বলায় চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে তার পরিষদের দুই গ্রামপুলিশ ও এক স্বেচ্ছাসেবকসহ পাঁচজনকে আহত করেছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটক দুজনকে থানায় নিয়ে আসে। পরে রাত নয়টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে হামলাকারীদের পরিবারের মধ্যে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে সমঝোতা হলে ইউপি সদস্যের জিম্মায় তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিতে বলায় গ্রামপুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের পিটিয়ে আহত করেছে বিক্রম ও বিনয় নামে দুজন। ভাঙচুর চালিয়ে হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষতি করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত