প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ, ইউরো ও নেশনস লিগ— এই তিন শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়ল ফ্রান্স। বিশ্বকাপ ও ইউরো আগেই ঘরে তুলেছিল ফরাসিরা।
এবার ইউরোপের অন্যতম আসর নেশনস লিগের দ্বিতীয় আসরেই শিরোপার স্বাদ পেল ফ্রান্স। রবিবার রাতে মিলানের সান সিরোতে স্পেনের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দিদিয়ের দেশমের দল। পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তে কিলিয়ান এমবাপ্পের ‘বিতর্কিত’ গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে ফরাসিরা।
সেমিফাইনালেই দুর্দান্ত কামব্যাকের গল্প লিখেছিল দেশমের দল। প্রথমার্ধে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ ব্যবধানে জিতে ফাইনালের টিকিট কেটেছিল তারা। ফাইনালেও আরেকটি ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প লিখল ফ্রান্স।
প্রথমার্ধে বিবর্ণ ছিল দুই দলের আক্রমণভাগ। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত খেলা উপহার দেয় তারা। ৬৪তম মিনিটে এগিয়ে ইতালির রেকর্ড ৩৭ ম্যাচের জয়যাত্রা থামিয়ে ফাইনালে ওঠা স্পেন। সার্জিও বুসকেটসের থ্রু বল ধরে ডিফেন্ডার দায়োত আপামেকানোর বাধা এড়িয়ে ডি-বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে গোলরক্ষক হুগো লরিসকে পরাস্ত করেন মিকেল ওইয়ারসাবাল।
এর দুই মিনিট পরেই সমতায় ফেরে ফ্রান্স। এমবাপ্পের পাসে ডি-বক্সের বাঁ-দিক থেকে নেওয়া বাঁকানো শটে দূরের পোস্টের ওপরের কোণা দিয়ে বল জালে পাঠান করিম বেনজেমা। গোলরক্ষক উনাই সিমন ঝাঁপিয়ে বলে হাত লাগালেও গোলপোস্ট রক্ষা করতে পারেননি।
৮০তম মিনিটে ‘সৌভাগ্যসূচক’ গোলে লিড নেয় ফ্রান্স। ডিফেন্ডার থিও হার্নান্দেজেরে বাড়ানো বলে অফসাইডে ছিলেন এমবাপ্পে। কিন্তু বল স্প্যানিশ ডিফেন্ডার গার্সিয়ার পায়ে লেগে আসায় অফ-সাইডের বাঁশি বাজাননি রেফারি। সেই বল ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্পেনের জালে বল পাঠান ২২ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।
এরপর একের পর এক আক্রমণে সমতায় ফিরতে চেষ্টা করেছিল লুইস এনরিখের দল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দুটি দুর্দান্ত সেভে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের জয় নিশ্চিত করেছেন গোলরক্ষক লরিস।
২০১৯ সালের নেশনস লিগের প্রথম আসরে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল পর্তুগাল। কোচ দেশমের হাত ধরে দ্বিতীয় আসরে শিরোপা জিতল ফ্রান্স। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ও ইউরো জয়ের পর কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে দেশকে বিশ্বকাপ জেতান এই ফরাসি কোচ। এবার একই দল নিয়ে ফ্রান্সকে এনে দিলেন নেশনস লিগের শিরোপা।
