প্রথম বিশ্বকাপের একটা জয়ের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শূন্য হাতে ফেরে বাংলাদেশ। সেই ধারা ২০১০ উইন্ডিজ বিশ্বকাপেও অব্যাহত থাকে। সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল জিততে পারেনি একটি ম্যাচও। ‘এ’ গ্রুপে আগেরবারের চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সেন্ট লুসিয়ায় প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে হেরে যান সাকিবরা। সালমান বাটের ৪৬ বলে ৭৩ ও কামরান আকমলের ৫৫ বলে ৭৩ রানের দুটি দারুণ ইনিংসে আগে ব্যাট করে পাকিস্তান তোলে ১৭২/৩। সাকিব ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই উইকেট হারায়। এরপর আশরাফুল আর সাকিব ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। তৃতীয় উইকেটে ৯১ রান যোগ করেন তারা। ৩১ বলে ৪৭ করা সাকিবকে ফেরান মোহাম্মদ সামি। একটু পরে মোহাম্মদ আমির আউট করেন ৪৯ বলে ৬৫ করা আশরাফুলকে। বাংলাদেশের আশাও শেষ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ১৫১ রানে থামে টাইগাররা। বার্বাডোজে দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে ১৪১ রানে আটকে দিয়েছিল বাংলাদেশ। এ ম্যাচে ২ উইকেট নেন সাকিব। মাশরাফীর শিকারও ছিল দুটি। কিন্তু ব্যাটিংয়ে বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে ছিটকে যায়। পরে সাকিব (২৮) আর মুশফিকের (২৪) কোনোরকমে ১০০ পার করে বাংলাদেশ (১৮.৪ ওভারে ১১৪ রান)।
ইংল্যান্ডের ইতিহাস
সুপার এইটে ‘ই’ গ্রুপে ছিল ইংল্যান্ড, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। তিনটি ম্যাচই জেতে ইংলিশরা। ওঠে সেমিফাইনালে। পাকিস্তানও ওঠে সেমিতে। অন্য গ্রুপ থেকে সেমিফাইনাল খেলে শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া। বিদায় নেয় স্বাগতিক উইন্ডিজ। সেন্ট লুসিয়ায় প্রথম সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে রীতিমতো উড়িয়ে দেয় ইংলিশরা। লঙ্কা আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১২৮ রান তুলেছিল। কেভিন পিটারসেন ঝড়ে ১৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছায় ইংল্যান্ড। ২৬ বলে ৪২ করেন পিটারসেন। ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে পল কলিংউডের দল। অন্য সেমিতে আগে ব্যাট করা পাকিস্তান ৬ উইকেটে ১৯১ রান করেছিল। ৩৫ বলে ৫৬ করেন উমর আকমল। সেই রান তাড়া করতে নেমে ৬২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পরে অস্ট্রেলিয়া। এরপর ক্যামেরন হোয়াইট (৪৩) এবং মাইক হাসি অস্ট্রেলিয়াকে জেতান। ২৪ বলে ৬০ রানে অপরাজিত ছিলেন হাসি। ৩ উইকেট নিয়ে মোহাম্মদ আমির চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু সফল হতে পারেননি। ১ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠে অস্ট্রেলিয়া।
বার্বাডোজের ফাইনালে অবশ্য ইংল্যান্ডের সামনে দাঁড়াতে পারেনি মাইকেল ক্লার্কের দল। আগে ব্যাট করে ডেভিড হাসির ৫৯ রানের ওপর ভর করে ৬ উইকেটে ১৪৭ করে অস্ট্রেলিয়া। ১৯ বলে ৩০ করেন হোয়াইট। ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রেইগ কিসওয়েটার (৬৩) ও কেভিন পিটারসেন (৪৭) ঝড় তোলেন। ৩ ওভার হাতে রেখে ৭ উইকেটে ম্যাচ জেতে ইংল্যান্ড। প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায় ইংল্যান্ড। টুর্নামেন্টে ২৪৮ রান করা পিটারসেন হন ম্যাচসেরা।
