এলজিএসপি প্রকল্পের পাবলিক টয়লেট ব্যবসায়ীর বাড়িতে

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ০৬:২৬ পিএম

পাবলিক প্লেসে নির্মাণের বদলে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নে এলজিএসপি প্রকল্পের টয়লেট এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দরগারচর গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের বাড়িতে এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের অর্থে পাকা টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।

ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন) প্রকল্পের সাবেক শাহজাপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. হালিম ও হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে এ অনিয়মের লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক, শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান, শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দুর্নীতি দমন কমিশন, সিরাজগঞ্জ র‌্যাব-১২, শাহজাদপুর প্রেসক্লাব ও শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডবাসী মো. আমিনুল ইসলাম এই লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী আমিনুল ইসলাম ও এলাকাবাসী জানান, ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দরগারচর এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) প্রকল্প থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি করা হয় ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মমিনকে। তিনি ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন) প্রকল্পের সাবেক শাহজাদপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. হালিমের যোগসাজশে সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সরকারি জায়গার পরিবর্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন ওই বাড়িতে উৎকোচের বিনিময়ে টয়লেটটি নির্মাণ করেন।

তারা আরও বলেন, ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নানের বাড়িতে নির্মাণাধীন টয়লেটের সঙ্গে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট (এলজিএসপি-৩) এর ফলক এখনো লাগানো রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল হান্নান বলেন, এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নাই। এ বিষয়ে হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মমিনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনিই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল মমিন বলেন, ওই এলাকায় সরকারি জায়গা না থাকায় আব্দুল হান্নানের বাড়িতে টয়লেটটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাচ্চু এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই ইউপি সদস্য ভুল জায়গায় টয়লেটটি নির্মাণ করেছেন। এ বিষয়ে ইউএনও সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারি জায়গায় আরেকটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণকাজ হাতে নিয়েছি।

এ বিষয়ে ইউনিসেফ জিওবি প্রজেক্ট (স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও স্যানিটেশন) প্রকল্পের সাবেক শাহজাদপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. হালিম বলেন, আমি বর্তমানে সরকারের কমিউনিকেশন ফর সি ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে শাহজাদপুর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর হিসাবে কর্মরত আছি। এ প্রকল্পের অধীনে কাজগুলোই দেখাশোনা করি। এ ছাড়া অন্য কোনো প্রকল্পের কাজের অভিযোগ সঠিক নয়। এ ছাড়া এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের অর্থে ব্যবসায়ীর বাড়িতে নির্মিত পাবলিক টয়লেটের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ ধরনের প্রজেক্টে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। যেহেতু প্রকল্প বহির্ভূত কাজ হয়েছে, সেহেতু বিষয়টি তদন্ত করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত