ঈশ্বরদীতে যুবলীগ নেতাকে ৩ রাউন্ড গুলি করে হত্যার চেষ্টা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৪৯ পিএম

ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের ৯ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন ওরফে রুটি শাহীনকে (৩৮) গুলি করে হত্যার চেষ্টা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা যুবলীগ নেতা শাহীনকে লক্ষ্য করে পর পর ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। দুটি তার বুকে ও একটি তার বাম হাতে লাগে।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঈশ্বরদী আলহাজ্ব টেক্সটাইল স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। শাহিন পৌর এলাকার ইস্তা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

ঘটনার পরপরই গুরুতর আহত অবস্থায় শাহীনকে উদ্ধার করে প্রথমে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেও শাহীনের অবস্থা সংকটাপন্ন হলে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। শাহীন বর্তমানে সেখানেই  আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

গুরুতর আহত অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্সে শাহীন সাংবাদিকদের জানান, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের উপস্থিতিতে তার একজন ক্যাডার খুব কাছ থেকে পর পর তিন রাউন্ড গুলি করে।

তিনি সে সময় শাহীন জুবায়ের বিশ্বাসের শাস্তির দাবি জানান।

রোববার সকাল সাড়ে ১১টায় ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা ও পৌর যুবলীগের আয়োজনে শাহীনের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়।

অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল বলেন, শাহীন যুবলীগের একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। তার একটাই অপরাধ সে উপজেলা যুবলীগ ও পৌর যুবলীগের নেতাদের নেতৃত্বে রাজনীতি করেন। ইতিপূর্বেও তাকে একাধিকবার হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের পর থেকেই ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজমান ছিল। গুলিবর্ষণ, হাত কাটা ও বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ছিল না। কিন্তু পরিবেশকে নষ্ট করতেই আবারো এ ধরনের  কার্যকলাপ শুরু করেছে একটি কুচক্রী মহল।

তমাল বলেন, শাহীনকে খুব কাছ থেকে তিনটি গুলি করা হয়েছে। গুলিবদ্ধ অবস্থায় শাহীন স্পষ্টভাবেই  ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের নাম বলেছে।

তমাল আরো বলেন, জুবায়ের বিশ্বাস এর আগেও তার স্ত্রীকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়। সেই অস্ত্র আজও উদ্ধার হয়নি। এমনকি সেই ঘটনার বিচারও হয়। সেই ঘটনার যদি বিচার হতো তাহলে আজকে এ ঘটনা ঘটতো না।

তমাল বলেন, আমরা ঢালাওভাবে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে চাই না। আমরা প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। আমি জাতীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্লব বলেন, হঠাৎ করেই ঈশ্বরদীর শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে একটি কুচক্রী মহল। আমি দৃঢ় কণ্ঠে বলতে চাই, ঈশ্বরদীতে যুবলীগ অত্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন। কেউ যুবলীগকে নিয়ে ষড়যন্ত্র ও বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম লিটন, যুবলীগ নেতা মিলন চৌধুরী, তুষার মন্ডল, হাবিবুর রহমান হাবিব, স্বপন হোসেন, রুহুল আমিন কুদ্দুস, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রনি, সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস, কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি খন্দকার আরমানসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাসের কাছে এ ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িত নই।

এ বিষয়ে থানার ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, সেখান থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, কী কারণে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত