১৯৫১ সালে জন হপকিন্স হাসপাতালে ভর্তি হওয়া হেনরিয়েটা ল্যাকসের শরীরে ক্যানসারের কোষ ছিল। তাকে না জানিয়ে তার শরীর থেকে সুস্থ ও ক্যানসারের দুটো কোষ নেওয়া হয়। এই কোষ দুটো থেকে অনেক রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে তার অভূতপূর্ব এই অবদানের জন্য ১৩ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা
হেনরিয়েটা ল্যাকস
১৯২০ সালের ১ আগস্ট ভার্জিনিয়ার রোয়ানক গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হেনরিয়েটা ল্যাকস। তখন অবশ্য তার নাম ছিল লরেটা প্লিজেন্ট। মা এলিজা প্লিজেন্ট এবং বাবা জন রানডাল প্লিজেন্টের আদরের মেয়ে ছিলেন হেনরিয়েটা। হালকা বাদামি চোখের মেয়ে হেনরিয়েটা সব সময় হাতে লাল রঙের নেইল পলিশ লাগিয়ে রাখতেন। আচমকা পরিবার থেকে তার নাম বদলে লরেটা থেকে হেনরিয়েটা রাখা হয়। ১৯২৪ সালে তার যখন চার বছর বয়স, তখন তার মা দশম সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তানদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে না পেরে ভার্জিনিয়ার ক্লোভারে চলে যান হেনরিয়েটার বাবা। এখানে এসে একেক আত্মীয়র কাছে একেকজন সন্তানকে রেখে যান। হেনরিয়েটা রয়ে গিয়েছিলেন নানা থমাস হেনরি ল্যাকসের কাছে।
নানার পরিবারের সবাই তামাক চাষের কাজ করতেন। এখানে বাস করতে এসে অল্প বয়সে হেনরিয়েটাকেও তাই তামাকচাষি হয়ে কাজ করতে হয়। গৃহপালিত পশুদের খাবার দিয়ে, বাগান পরিষ্কার করে, তামাক চাষ করতে মাঠে যেতেন। কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় সব স্কুলে লেখাপড়ার অনুমতি ছিল না তার। বাড়ি থেকে দুই মাইল হেঁটে একটি স্কুলে গিয়ে পড়তে হতো। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করার জন্য স্কুল ছেড়ে দিতে হয় তাকে। ১৯৩৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ছেলে লরেন্স ল্যাকসের জন্ম হয়। ১৯৩৯ সালে জন্ম হয় মেয়ে এলসি ল্যাকসের। এলসির এপিলেপসি ও সেরেব্রাল পালসি ছিল। পরিবারে তাকে অন্যদের থেকে আলাদা এমনকি বধির ও বোবা বলা হতো। ১৯৫৫ সালে মারা যান এলসি।
অসুস্থতা
১৯৪১ সালে ভার্জিনিয়ার তামাকক্ষেত ছেড়ে স্বামী ডে ল্যাকসের সঙ্গে মাল্টিমোরের মেরিল্যান্ডে চলে আসেন হেনরিয়েটা। তাদের এখানে আসার জন্য সহায়তা করেছিলেন হেনরিয়েটার মামাতো ভাই ফ্রেড গ্যারেট। ডে ও গ্যারেট মিলে কোনো কোম্পানিতে কাজ করবেন এমনই পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু তত দিনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজেছে। গ্যারেটযুদ্ধে চলে যান। গ্যারেটের উপহার দেওয়া অর্থ দিয়ে টার্নার স্টেশনের ৭১৩ নিউ পিটসবার্গ এভিনিউয়ে বাড়ি কেনে হেনরিয়েটা পরিবার। বর্তমানে এ জায়গাটি ডুনডাকের অংশ হলেও, টার্নার স্টেশন তখন বাল্টিমোরের সবচেয়ে পুরনো ও বড় আফ্রিকান-আমেরিকান সম্প্রদায় ছিল।
মেরিল্যান্ডে আসার পর ডেভিড, ডেবোরাহ ও জোসেফ (ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পরে নাম হয় জাকারিয়া বারি আবদুল রহমান) নামে তাদের আরও তিনজন সন্তানের জন্ম হয়। ১৯৫০ সালের নভেম্বর মাসে সর্বশেষ সন্তানের জন্মের সাড়ে চার মাস আগে তার শরীরে সার্ভিক্যাল ক্যানসার ধরা পড়ে।
চিকিৎসা
১৯৫১ সালের ২৯ জানুয়ারি ল্যাকস পরিবার মেরিল্যান্ডের জন হপকিন্স হাসপাতালে চলে যান। কারণ একমাত্র সেখানেই শুধু কৃষ্ণাঙ্গ রোগীদের চিকিৎসা করা হতো। সে সময় হেনরিয়েটা তার পেটের ভেতর এক ধরনের শক্ত গিঁটের মতো কিছু অনুভব করছিলেন। ভাই-বোনদের সে বিষয়ে জানালে সবাই ভেবেছিলেন তিনি বোধ হয় আবারও মা হতে যাচ্ছেন। সবার ধারণা অবশ্য সত্যি হয়। জোসেফ তখন তার গর্ভে। কিন্তু জোসেফের জন্মের পর থেকে তার প্রচুর রক্তপাত হতে থাকে। চিকিৎসক শুরুতে সিফিলিস পরীক্ষা করলেও সে রকম কিছু ধরা পড়ে না। পরে তিনি আবারও জন হপকিন্স হাসপাতালে যান। সেখানে হাওয়ার্ড জোনস নামে একজন চিকিৎসক একটি বায়োপসি করেন। জানা যায়, হেনরিয়েটার জরায়ুতে মারাত্মক এপিডারময়েড কার্সিমোনা (স্কোয়ামাস কোষ থেকে তৈরি ভিন্ন ধরনের একটি ক্যানসার) রয়েছে।
হেনরিয়েটাকে কিছুদিন রেডিয়েশন থেরাপি দিয়ে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় এমন একটি ঘটনা ঘটে যার কারণে হেনরিয়েটা হয়ে ওঠেন চিকিৎসা বিজ্ঞানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষ।
হেনরিয়েটা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য বেশ কিছুদিন ছিলেন। এ সময় তাকে না জানিয়ে তার জরায়ু থেকে দুই ধরনের নমুনা নেওয়া হয়। একটি নমুনা ছিল সুস্থ কোষের এবং অন্যটি ক্যানসারের। এই নমুনাগুলো পাঠানো হয় জন হপকিন্সের চিকিৎসক ও ক্যানসার গবেষক জর্জ অটো গে’র কাছে। ক্যানসারের কোষগুলো ‘হেলা অমর কোষ লাইন’ নামে পরিচিতি পায়। বায়োমেডিকেল গবেষণায় এই কোষের লাইনকে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।
অনেক পরে ১৯৭০ সালে চিকিৎসকরা বুঝতে পেরেছিলেন তাকে আসলে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তার আসলে এডিনোকারসিনোমা (শরীরের বিভিন্ন অংশে উৎপন্ন হওয়া ক্যানসারের টিউমার) ছিল। ভুল পরীক্ষার কারণে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যু তখন খুব সাধারণ একটি বিষয় ছিল।
মৃত্যু
প্রচণ্ড পেটে ব্যথা নিয়ে ১৯৫১ সালের ৮ আগস্ট ৩১ বছর বয়সী হেনরিয়েটা জন হপকিন্স হাসপাতালে ভর্তি হন। রক্ত চলাচলে সমস্যা হওয়ায় বেশ কিছুদিন তাকে হাসপাতালেই থাকতে হয়। ১৯৫১ সালের ৪ অক্টোবর মারা যান হেনরিয়েটা। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তার পুরো শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছিল। ভার্জিনিয়ার ল্যাকসটাউনে পারিবারিক গোরস্তানে কোনো ধরনের চিহ্ন ছাড়াই দাফন করা হয় তাকে। তার কবরের জায়গাটি নির্দিষ্টভাবে না জানা থাকলেও পরিবারের বিশ্বাস মায়ের পাশেই শুয়ে আছেন হেনরিয়েটা।
গবেষণা
হেনরিয়েটার ক্যানসার কোষ নিয়ে সর্বপ্রথম গবেষণা করা গবেষক জর্জ অটো গে বেশ অদ্ভুত একটি বিষয় খেয়াল করেছিলেন। তিনি দেখলেন অন্যান্য কোষের চেয়ে এই কোষটি দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষেও সেগুলো জীবিত রয়ে যাচ্ছে। এর আগ পর্যন্ত গবেষণাগারে পরীক্ষার জন্য যে কোষগুলো ব্যবহার করা হতো সেগুলো পরীক্ষার পর বেশি দিন বাঁচত না। যার কারণে বিভিন্ন সময় সেগুলো ব্যবহার করা যেত না। হেনরিয়েটার কোষগুলো জীবিত তো থাকতই, অল্প সময়েই কোষের সংখ্যা বেড়ে যেত। যার কারণে এগুলোকে বলা হতো অমর কোষ। জর্জ তার ল্যাবের সহকারী ম্যারি কিউবিককে সঙ্গে নিয়ে ময়নাতদন্তে থাকা হেনরিয়েটার শরীর থেকে আরও কিছু নমুনা সংগ্রহ করেন। এই নমুনাগুলো বাঁচিয়ে রাখার জন্য রোলার টিউব টেকনিক ব্যবহার করা হতো। জর্জ খুব সাবধানে কোষগুলো একটি আরেকটি থেকে আলাদা করতেন যেন সেগুলো আরও গবেষণায় ব্যবহার করা যায়। হেনরিয়েটা ল্যাকসের নামের সঙ্গে মিলিয়ে কোষগুলোর নাম দেওয়া হয় ‘হেলা কোষ’।
হেলা কোষের এমন নানাবিধ ব্যবহার বায়োমেডিকেল গবেষণায় অভূতপূর্ব সাড়া ফেলে। যেমন ১৯৫৪ সালে হেলা কোষ ব্যবহার করে জোনাস সক পোলিও ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেন। নতুন এই ভ্যাকসিন পরীক্ষা করার জন্য প্রথমবার কোষ উৎপাদন কারখানায় বিপুল পরিমাণে কোষ উৎপাদন করা হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে ভাইরাসবিদ চেসটার এম সাউদাম ক্যানসার রোগী, কারাবন্দি এবং সুস্থ ব্যক্তিদের শরীরে হেলা কোষ প্রয়োগ করেন। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন সুস্থদের মধ্যেও ক্যানসারপ্রতিরোধী রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় কি না।
দিন দিন হেলা কোষের চাহিদা বাড়তে থাকে। বিশ্বজুড়ে ক্যানসার, এইডস, রেডিয়েশনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণাকারীদের কাছে কোষ পৌঁছে দেওয়া হয়। হেলা কোষই প্রথম মানবকোষ যেটি সফলভাবে ১৯৫৫ সালে ক্লোন করা সম্ভব হয়। টেপ, গ্লু, কসমেটিকসসহ নানা পণ্যে মানুষের সংবেদনশীলতা পরীক্ষার জন্য এই কোষ ব্যবহার করা হয়। হেলা কোষের প্রায় ১১ হাজার পেটেন্ট আছে।
১৯৭০ দশকের শুরুর দিকে, হেলা কোষের কারণে অন্যান্য কোষের একটি বিশাল অংশ দূষিত হয়ে পড়ে। যার কারণে হেনরিয়েটার পরিবারের অন্য সদস্যদের রক্তের নমুনা নেওয়ার চিন্তা করা হয়। গবেষকরা ধারণা করেছিলেন, তার পরিবারের অন্যদের শরীরের কোষ থেকেও হয়তো কোষের ক্লোন করা যাবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তার পরিবারের বিভিন্ন সদস্যরা একের পর এক ফোন পান। ১৯৭৫ সালে তাদের সরাসরি হেনরিয়েটা ল্যাকসের বিষয়ে কথা বলার জন্য একটি ডিনারের আয়োজনও করা হয়। হেনরিয়েটার পরিবার কখনো তার অসুস্থতা বা মৃত্যু নিয়ে কোথাও কথা বলেনি। কিন্তু এসব ঘটনার পর থেকে তারাও তাদের মায়ের মৃত্যু নিয়ে জানতে আগ্রহী হয়।
গোপনীয়তা
হেনরিয়েটা ল্যাকস বা তার পরিবারের কোনো সদস্য কখনো তার কোষ থেকে আরও কোষ উৎপাদনের অনুমতি দেননি। সে সময় অনুমতি নেওয়ার বাধাধরা নিয়ম ছিল না। এই কোষগুলো চিকিৎসা গবেষণা ও বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহার করা হচ্ছিল। ১৯৮০ দশকের দিকে পরিবারের অনুমতি ছাড়াই মেডিকেলের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ১৯৯০ সালে আদালত থেকে জানা যায়, কোনো ব্যক্তির কোষ আর তার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই এবং বাণিজ্যিকভাবে এটি ব্যবহার করা যাবে। এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ৫০ মিলিয়ন টন হেলা কোষ বিতরণ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৭৫ হাজারেরও বেশি কোষ নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
২০১৩ সালের মার্চ মাসে, গবেষক দল হেলা কোষের ডিএনএ সিক্যুয়েন্স নিয়ে বই ‘ The Immortal Life of Henrietta Lacks’ প্রকাশ করে। এর লেখক রেবেকা স্কুট বিষয়টি ল্যাকস পরিবারকে জানালে প্রথমবার তারা এ সম্পর্কে জানতে পারেন। এ নিয়ে পরিবার থেকে আপত্তি জানানো হয়েছিল। একই বছর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের আরও একটি দল হেলা কোষ নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ করে। ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ এবং হেনরিয়েটারের পরিবারের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। ডিএনএ সিক্যুয়েন্স সম্পর্কে পরিবার জানার অধিকার পায়। সিক্যুয়েন্স ডেটা নিয়ে কাজ করা ছয়জন সদস্যের মধ্যে পরিবারের দুজন সদস্যকে যুক্ত করা হয়। ২০২১ সালে হেনরিয়েটার পরিবার তাদের না জানিয়ে অতীতে এবং বর্তমানে হেলা কোষ বিক্রির জন্য থার্মো ফিশার সায়েন্টিফিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে।
সম্মাননা
১৯৯৬ সালের ১১ অক্টোবর, মোরহাউজ স্কুল অব মেডিসিন তাদের প্রথম বার্ষিক হেলা উইম্যানস হেলথ কনফারেন্সের আয়োজন করে। আটলান্টার মেয়র এ দিনটিকে ‘হেনরিয়েটা ল্যাকস ডে’ হিসেবে ঘোষণা দেন। টার্নার স্টেশনে আজও তার অবদান নিয়ে বার্ষিক অনুষ্ঠান হয়। ২০১০ সালে, জন হপকিন্স ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রানজিশনাল রিসার্চ হেনরিয়েটার স্মরণে বার্ষিক একটি লেকচার সিরিজ প্রকাশ করে। ২০১৮ সালে মেডিকেল ক্যাম্পাসে হেনরিয়েটার নামে একটি ভবন প্রতিষ্ঠার কথা ঘোষণা দেওয়া হয়।
২০১১ সালে বাল্টিমোরের মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটি পাবলিক সার্ভিসে তাকে পোসথিউমাস সম্মাননা জানায়। একই বছর, ওয়াশিংটনের ভ্যানকুভারের এভারগ্রিন স্কুল ডিস্ট্রিক্ট মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি করা স্কুলের নাম রাখে হেনরিয়েটা ল্যাকস অ্যান্ড বায়োসায়েন্স হাইস্কুল। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হেনরিয়েটার নাম ছিল সেটাই প্রথম।
২০১৮ সালে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস তার মৃত্যু নিয়ে একটি লেখা প্রকাশ করে। একই বছর, ন্যাশনাল পোর্ট্রইেট গ্যালারি এবং ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আফ্রিকান-আমেরিকান হিস্টোরি অ্যান্ড কালচার একত্রে হেনরিয়েটার একটি পোর্ট্রইেট প্রকাশ করে। এর চিত্রকার ছিলেন কাদির নেলসন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি
চিকিৎসা বিজ্ঞানে হেনরিয়েটা ল্যাকসের অবদান অমূল্য। তার এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৩ অক্টোবর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘পোসথিউমাস অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর-জেনারেল ড. টেড্রোস গেব্রিয়েসাস এই অ্যাওয়ার্ডের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ‘হেনরিয়েটা ল্যাকসের সঙ্গে যা হয়েছে তা ঠিক হয়নি। বিজ্ঞানে যত নারীদের ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তার মধ্যে তিনি একজন। সুস্থ হওয়ার জন্য তিনি স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি ভরসা রেখেছিলেন। কিন্তু অনুমতি ছাড়া এই স্বাস্থ্যব্যবস্থাই তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কোষ নিয়েছিল। এ অন্যায় থেকে চিকিৎসার যত প্রযুক্তি বিকশিত হয়েছিল সেগুলোকে স্থায়ী করার জন্য দিনের পর দিন আরও অন্যায় করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে এই অবদান সমানভাবে ব্যবহার করা হয়নি। বিজ্ঞানের সব শাখায় অবদান রাখার জন্য এবং স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞানে সাম্যতা এগিয়ে নেওয়ার জন্য হেনরিয়েটাকে সম্মান জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে অদৃষ্ট অবদান রাখা নারীর অবদানকে চিনে নেওয়ার এটাই সুযোগ।’
