ঢাবির হলে সিনিয়রদের সালাম না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৩:২৯ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রলীগের সিনিয়রদের সালাম না দেওয়ায় প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির কর্মীদের বিরুদ্ধে।

প্রায় প্রতিদিন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে হলের ২২৫ ও ১১৯ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্তরা হলেন- ইতিহাস বিভাগের আনিসুর, দর্শন বিভাগের নাফি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাইসুল, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সজীব, ফারসি বিভাগের জহিরুল, সমাজ কল্যাণ বিভাগের শাকিল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শামীম।

এরা সবাই হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল সোবাইলের অনুসারী। আর সোবাইল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।

হল সূত্রে জানা যায়, হলের ২২৮ নম্বর রুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকেন। সোবাইলের অনুসারীরা অবৈধভাবে এসব শিক্ষার্থীকে হলে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বিনিময়ে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হয় ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে। আর রাতে বসতে হয় গেস্টরুমে।

গেস্টরুমে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের নিয়ম জানিয়ে দেন। এর মধ্যে সিনিয়রদের বাধ্যতামূলক সালাম দেয়া, সালাম দিয়ে হ্যান্ডস শেক (করমর্দন) করা, নিয়মিত রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া অন্যতম।

এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয়েছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী কর্মীরা। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের রুমে ডেকে চড়-থাপ্পড় ও স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, হলগেটে বড় ভাইদের সালাম না দেয়ায় গত কয়েক দিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর মারধর চলছে।

প্রথম বর্ষের ১৫ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের এসব মারের শিকার হয়েছেন। মারধরের বিষয়টি কাউকে না জানাতেও নির্দেশ দেয়া হয়।

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের গেস্টরুমে ১৪টি নিয়ম শেখানো হয়। প্রতিদিন এগুলো মুখস্থ বলতে হয়, কিন্তু আমি না পারায় আমাকে থাপ্পড় দিয়েছে আনিসুল ভাই। আমি গেস্টরুমে টিশার্ট পরে আসছি এটাও নাকি আমার অপরাধ ছিল।’

মারধরের প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার এক বন্ধুকে রাজু ভাস্কর্য কোথায় জিজ্ঞাসা করেছিল দ্বিতীয় বর্ষের বড় ভাইয়েরা। তখন তার মাথায় বিষয়টি আসছিল না, তাই সে বলতে পারেনি। এরপর তাকে জহুরুল ভাই এমন জোরে থাপ্পড় দিয়েছিল, আমার সে বন্ধু কান্না করে দিয়েছে। তার হাঁপানি রোগও ছিল। থাপ্পড় খেয়ে সে হাঁপাচ্ছিল। পরে তাকে গেস্টরুম থেকে ছুটি দিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল সোবাইল বলেন, আরও কয়েকজনের কাছে ঘটনাটা আমি শুনেছি। এরপর আলাদাভাবে দ্বিতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি বসেছি। তারা বলেছে, তারা মারধর করেনি। সামান্য উচ্চ বাক্যে বকা বা ধমক দিয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি বিষয়টি তোমাদের (সাংবাদিক) কাছ থেকে শুনছি। এখনো কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। তবে যে গ্রুপের উপর অভিযোগ, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা আমাকে জানিয়েছে এটা জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি।

তিনি বলেন, যাদের মারধর করা হয়েছে তাদের কাছে আহ্বান থাকবে আমার কাছে যেন তারা অভিযোগ করেন। আমি সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।

ঢাবি প্রতিনিধি
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রলীগের সিনিয়রদের সালাম না দেওয়ায় প্রথম বর্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সংগঠনটির কর্মীদের বিরুদ্ধে।
 
প্রায় প্রতিদিন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীকে হলের ২২৫ ও ১১৯ নম্বর রুমে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
 
অভিযুক্তরা হলেন- ইতিহাস বিভাগের আনিসুর, দর্শন বিভাগের নাফি, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের রাইসুল, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের সজীব, ফারসি বিভাগের জহিরুল, সমাজ কল্যাণ বিভাগের শাকিল ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শামীম।
 
এরা সবাই হল শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল সোবাইলের অনুসারী। আর সোবাইল ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী।
 
হল সূত্রে জানা যায়, হলের ২২৮ নম্বর রুমে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা থাকেন। সোবাইলের অনুসারীরা অবৈধভাবে এসব শিক্ষার্থীকে হলে থাকার ব্যবস্থা করেছেন। বিনিময়ে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে যেতে হয় ছাত্রলীগের প্রোগ্রামে। আর রাতে বসতে হয় গেস্টরুমে।
 
গেস্টরুমে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের নিয়ম জানিয়ে দেন। এর মধ্যে সিনিয়রদের বাধ্যতামূলক সালাম দেয়া, সালাম দিয়ে হ্যান্ডস শেক (করমর্দন) করা, নিয়মিত রাজনৈতিক প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া অন্যতম।
 
এসব নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাতেই মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলে প্রথম বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয়েছেন ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশী কর্মীরা। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের রুমে ডেকে চড়-থাপ্পড় ও স্ট্যাম্প দিয়ে পেটানোর অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে।
 
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, হলগেটে বড় ভাইদের সালাম না দেয়ায় গত কয়েক দিন ধরে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওপর মারধর চলছে।
 
প্রথম বর্ষের ১৫ থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের এসব মারের শিকার হয়েছেন। মারধরের বিষয়টি কাউকে না জানাতেও নির্দেশ দেয়া হয়।
 
ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের গেস্টরুমে ১৪টি নিয়ম শেখানো হয়। প্রতিদিন এগুলো মুখস্থ বলতে হয়, কিন্তু আমি না পারায় আমাকে থাপ্পড় দিয়েছে আনিসুল ভাই। আমি গেস্টরুমে টিশার্ট পরে আসছি এটাও নাকি আমার অপরাধ ছিল।’
 
মারধরের প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার এক বন্ধুকে রাজু ভাস্কর্য কোথায় জিজ্ঞাসা করেছিল দ্বিতীয় বর্ষের বড় ভাইয়েরা। তখন তার মাথায় বিষয়টি আসছিল না, তাই সে বলতে পারেনি। এরপর তাকে জহুরুল ভাই এমন জোরে থাপ্পড় দিয়েছিল, আমার সে বন্ধু কান্না করে দিয়েছে। তার হাঁপানি রোগও ছিল। থাপ্পড় খেয়ে সে হাঁপাচ্ছিল। পরে তাকে গেস্টরুম থেকে ছুটি দিয়ে দেয়।
 
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ আল সোবাইল বলেন, আরও কয়েকজনের কাছে ঘটনাটা আমি শুনেছি। এরপর আলাদাভাবে দ্বিতীয় বর্ষ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমি বসেছি। তারা বলেছে, তারা মারধর করেনি। সামান্য উচ্চ বাক্যে বকা বা ধমক দিয়েছে।
 
এ বিষয়ে কথা বলতে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়কে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল ধরেননি। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
 
এ বিষয়ে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বিল্লাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি বিষয়টি তোমাদের (সাংবাদিক) কাছ থেকে শুনছি। এখনো কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। তবে যে গ্রুপের উপর অভিযোগ, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা আমাকে জানিয়েছে এটা জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি।
 
তিনি বলেন, যাদের মারধর করা হয়েছে তাদের কাছে আহ্বান থাকবে আমার কাছে যেন তারা অভিযোগ করেন। আমি সর্বোচ্চ গোপনীয়তা বজায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
 
 
×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত