ময়মনসিংহের ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস মণ্ডলের নামে ৪০ দিনের কর্মসূচিসহ নানা প্রকল্পের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ইউনিয়নে হত দরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ না করিয়ে লেবারের তালিকায় আপনজন ও ভুয়া কিছু নাম দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা নিজের লোক দিয়ে তুলে নিয়েছেন তিনি। ভিজিএফ চালের পরিবর্তে ৪৫০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজনকে কিছু টাকা দিয়ে বাকি টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া, ভিজিএফের ৭০ বস্তা চাল তার ব্যক্তিগত ড্রাইভারের কাছে বিক্রি এবং বয়স্ক ও বিধবা ভাতার কার্ড বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের কাছ থেকে ও সরেজমিনে জানা যায়, মঠবাড়ী ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্য গৃহীত প্রকল্পের ৫ নং ওয়ার্ডের রাস্তায় দু-এক কোদাল মাটি ফেলে ২৫ জন লেবার দেখিয়ে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। লেবারের তালিকায় যাদের নাম আছে তারা অনেকেই জানে না এ কাজের কথা। তালিকায় থাকা বেশির ভাগ ওই ওয়ার্ডের মেম্বারের পরিবারের লোক।
ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে রাস্তার কোনো কাজ না করেই চেয়ারম্যান টাকা তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ৩৬ জন লেবারের তালিকায় দেয়া হয়েছে মেম্বারের ছেলেসহ বিত্তবানদের নাম।
ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে ৯ প্রকল্পের ১ প্রকল্পেই ১৬৫ জন লেবার দেখিয়ে ১৩ লাখ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ওঠার পর মেম্বারের মাধ্যমে তড়িঘড়ি করে মাত্র তিন দিনে বিকল্প উপায়ে ভেকুতে রাস্তায় মাটি ফেলেছে চেয়ারম্যান। লেবারের তালিকায় যাদের নাম আছে কেউই টাকা পাননি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মঠবাড়ী ইউনিয়নের ১০টি ওয়ার্ডে কাচা রাস্তা চলার উপযোগী করার জন্য যে বরাদ্দ ছিল তা চেয়ারম্যান তার পরিবারসহ মেম্বারদের যোগসাজশের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এদিকে রাস্তার কাজ না হওয়ায় জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
৯ নং ওয়ার্ডের এলাকাবাসী জানায়, তিন মাসেরও অধিক সময় আগে রাস্তায় কাজ দেখিয়ে টাকা ওঠালেও আমরা এর কিছুই জানতাম না। পরে এলাকায় জানাজানি হলে ও সামনে নির্বাচন থাকায় চেয়ারম্যান মেম্বারকে দিয়ে দ্রুত ভেকু মেশিনে মাটি কেটে রাস্তায় ফেলে।
অভিযোগকারী ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বাশার বলেন, এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা ৪০ দিনের কর্মসূচিতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। আমি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের অনিয়ম দুর্নীতির বিচার চেয়ে বিভিন্ন দপ্তরসহ সাংবাদিকদের একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান ইউনিয়নের প্রকল্পের টাকা দিয়ে পাঙাশের খাদ্য কিনে গোডাউনে স্টক করেছে। সাধারণ জনগণ ওনার কাছে গেলে খারাপ ব্যবহার করেন। জনগণ রাস্তার বেহাল অবস্থা থাকায় চলতে পারে না। রাস্তা ঠিক করতে বললে চেয়ারম্যান বলেন সরকারি কোন বরাদ্দ নাই। চেয়ারম্যান পাঁচ বছর ধরে সরকারি সব বরাদ্দ লুটেপুটে খাচ্ছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কদ্দুস মণ্ডলের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে কয়েকবার তার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। সর্বশেষ বলেন আমি ঢাকায় আছি নির্বাচনের প্রতীক নিয়ে ত্রিশাল আসব, পরে আপনার সাথে কথা বলব।
৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পে ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার সবুজ মিয়া বলেন, এখানে কর্মস্থলের শেষ মুহূর্তে আমাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। আমার আম্মা অসুস্থ থাকায় হয়তো কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শনে যেতে পারিনি। না দেখেই স্বাক্ষর করতে হয়েছে। তবে একেবারেই যে প্রকল্প গুলোতে কাজ করা হয়নি সেগুলোর বিষয়ে এবং কোন প্রকল্প দেখে স্বাক্ষর করছেন জানতে চাইলে, তিনি কোনো উত্তর দেননি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পগুলোতে কোনো অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মেনেই কাজ করা হয়েছে। যদি কোথাও কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান বলেন, এখানে মাত্র কয়েক দিন হলো আমি যোগদান করেছি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
