নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা পদ্মার চরে চরে ইলিশ বিক্রি

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১২:০০ এএম

ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের অভিযান ও জেল-জরিমানার মধ্যেও থেমে নেই ইলিশ শিকার। জেল-জরিমানার পাশাপাশি প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইলিশ শিকারও চলছে সমানতালে। গত কয়েক দিনের অভিযানে শুধু শিবচরেই প্রায় ২০০ জেলেকে এক বছর করে কারাদ- দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এরপরও থেমে নেই মা ইলিশ শিকার। নদী ও চরগুলোয় স্থায়ীভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্যাম্প না থাকায় মাদারীপুরের শিবচর, শরীয়তপুরের জাজিরা, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, ঢাকার দোহার, ফরিদপুরের সদরপুর অংশের পদ্মা নদী ও চরগুলোয় প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ইলিশ। কাশবনের ফাঁকে তাঁবু টানিয়ে অস্থায়ী বাজার বসিয়ে চলছে মা ইলিশ কেনা-বেচা। এ ছাড়া নদীর চরে মাছ রেখেই মুঠোফোনের মাধ্যমে নদীপাড়ের গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতেও বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা নানা উপায়ে পৌঁছাচ্ছেন এসব এলাকায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রশাসনের লোকজন চলে গেলেই চরগুলোয় শুরু হয় ইলিশ নিধনের মহোৎসব। ধরা পড়া মাছগুলোর পেট ভরা ডিম। জাটকাও ধরা পড়ছে। উজানের অঞ্চলগুলোয় নদীতে এখন ইলিশের ছড়াছড়ি হওয়ায় জেলেরা নিধনযজ্ঞে নেমেছেন। চরের যে এলাকাগুলোয় সড়ক যোগাযোগ নেই, সেখানেই বসছে বাজার।

সরেজমিনে দেখা যায়, চরের যেসব এলাকায় কাশবন রয়েছে, সেগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে জেলেদের আবাসস্থল ও অস্থায়ী আড়ত। অনেকে ইলিশের স্বাদ নিতে আসছেন পিকনিকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিবচরের এক জেলে এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার সময় আমাদের শিবচরের প্রশাসন অনেক কড়াকড়ি থাকলেও মুন্সীগঞ্জ, জাজিরাসহ অন্য অঞ্চলে প্রশাসন ততটা কড়াকড়ি করে না। তাই আমরা ওই সব অঞ্চলে গিয়ে মাছ ধরে চরেই বিক্রি করি। এখানে অনেক ক্রেতা আসে। আমরাও তাদের একটু কম মূল্যে মাছ দিয়ে দেই।’

চরজানাজাতের স্থানীয় বাসিন্দা আল-আমিন শেখ বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় প্রশাসনের লোকজন নদীতে দিনে দুইবার নামমাত্র টহল দেয়। পাড়ে কেউ আসে না। চরগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ইলিশের অস্থায়ী হাট বসে। নিষেধাজ্ঞার সময় নদীতে যদি স্থায়ীভাবে টহলের ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে মা ইলিশ নিধন বন্ধ করা সম্ভব।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত দফায় দফায় পদ্মায় অভিযান পরিচালনা করছি। তবে মা ইলিশ রক্ষায় স্থায়ীভাবে নদী ও চরগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ন করা প্রয়োজন।’

শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিরাজ হোসাইন বলেন, ‘জেলেরা কৌশলে সন্ধ্যা বা গভীর রাতে ইলিশ ধরে ক্রেতাদের কাছে কাশবনে বসেই বিক্রি করছে। আমরা যাওয়ার আগেই তারা সরে যায়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত