ইউপি নির্বাচন

প্রচারের প্রথম দিনেই বিদ্রোহী প্রার্থীর কার্যালয়ে হামলা নৌকার সর্মথকদের

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ১১:৫১ পিএম

ফরিদপুরের নগরকান্দার তালমা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর প্রচারণার প্রথম দিনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া (৪৩) অভিযোগ করে বলেছেন, ইউনিয়নের বিল নালিয়া নতুন বাজারে অবস্থিত তার একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা।

এ অভিযোগ নাকচ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রনজিৎ কুমার মন্ডল (৬৩)।

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক রনজিৎ কুমার মন্ডল। 

এ ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য কামাল হোসেন মিয়া। কামাল হোসেনর মা দেলোয়ারা বেগম বর্তমানে ওই ইউপির চেয়ারম্যান। তার বাবা মরহুম আবু শহীদ মিয়া একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং দীর্ঘদিন ওই ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।

দলীয় মনোনয়ন না দেওয়া কামাল মিয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১১ নভেম্বর তালমা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কামাল মিয়া আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় বিভক্ত হয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রকাশ ঘটে বুধবার বিকেলে ইউনিয়নের বিলনালিয়া গ্রামের নতুন বাজারে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুবলীগ কর্মী জাকির হোসেন জানান, মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়ার বিলনালিয়া নতুন বাজারের একটি অফিসে বসে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তৈয়বুর রহমান। বিকেলে সাড়ে ৪টার দিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা নৌকার স্লোগান দিতে দিতে কামালের অফিসে হামলা করে। এ সময় কামালের দুই সমর্থক রইস ও আক্কাসকে মারধর করে। এ সময় তারা অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ার-টেবিল ও অফিসটি ভাংচুর করে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ওই সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তৈয়বুর রহমানকে মারধর করে। হামলা থেকে বাঁচতে তৈয়বুর রহমান পাশের এক বাড়িতে আশ্রয় নেন।

ইউপি আওয়ামী লীগের সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, হামলাকারীরা আমাকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করলে আমি দৌড় দেই। ওই সময় হামলাকারীরা গালি দিয়ে বলে, ‘ওকে ধইরা মাইর দে ও আওয়ামী লীগ কইরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর দালালি করে, ওকে ছাড়া যাবে না।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল হোসেন মিয়া বলেন, আমার পরিবার আওয়ামী পরিবার। আমি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় প্রতিপক্ষের লোকজন আমার ওপর ক্ষিপ্ত। তারা আমার নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর করেছে। দুজনকে পিটিয়ে আহত করেছে। এ বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করব।

ঘটনা সম্পর্কে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রণজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, বিলনালিয়া নতুন বাজার এলাকায় আমার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী দুটি নির্বাচনী কার্যালয় মুখোমুখি অবস্থিত। আমি জানতে পেরেছি ওই দুই কার্যালয়ের কর্মীদের মধ্য ঠেলাঠেলি, ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন , স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল মিয়ার নির্বাচনী কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে ও কয়েকজনকে মারপিট করে। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত