সরকারি ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে অভিযুক্ত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধর ও তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়েসহ চারজনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সম্প্রতি ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে এই অধ্যাপক ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চায় বিএফআইইউ।
গত সোমবার ব্যাংকগুলোকে পাঠানো বিএফআইইউর চিঠিতে নিখিল রঞ্জন ধরের স্ত্রী অনুরূপা ধর, ছেলে ভাস্কর ধর ও মেয়ে দেবী ধরের সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়। চিঠিতে তাদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে নাম আসায় সম্প্রতি নিখিল রঞ্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বুয়েট কর্র্তৃপক্ষ। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিখিল রঞ্জন ধরকে কোনো পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত ৬ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীন পাঁচটি সরকারি ব্যাংকের ১ হাজার ৫১১টি ‘অফিসার ক্যাশ’ পদের নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে এক ঘণ্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর একাধিক প্রার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১০০টি প্রশ্নের প্রিন্ট করা উত্তরপত্র ফেইসবুকে পাওয়া গেছে। ওই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে ছিল আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর পরীক্ষাটি বাতিল করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকার সিলেকশন কমিটি সচিবালয়। এ ঘটনায় আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন কর্মচারীসহ কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বুয়েটের অধ্যাপক নিখিল রঞ্জন ধরের নাম সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ছাপাখানায় প্রশ্নপত্র ছাপা হওয়ার পর তিনি একটি বা দুটি সেট নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে নিতেন।
