বিশ্বব্যাপী আকাশপথে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনার শিকার দেশের ভেতরে ভারত অন্যতম। হেলিকপ্টার বা বিমান দুর্ঘটনায় নিহতের তালিকাতেও এগিয়ে আছে ভারত। দেশটির বহু নেতা আকাশপথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। ভারতে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার শিকার নেতাদের কথা লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
বিপিন রাওয়াত, ২০২১
গত ৮ ডিসেম্বর দুপুরে তামিলনাড়–তে ১৪ জনসহ একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ভারতের প্রথম প্রতিরক্ষা প্রধান বিপিন রাওয়াত নিহত হন। ২০১৯ সালে ভারতের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) বা প্রতিরক্ষা সর্বাধিনায়ক হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি। এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে কর্মরত থাকাকালে তার কিছু রাজনৈতিক মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দেয়।
জেনারেল রাওয়াত ১৯৫৮ সালের ১৬ মার্চ ভারতের উত্তরাখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল, আর মা ছিলেন ভারতীয় রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে। সামরিক প্রশিক্ষণের সময় জেনারেল রাওয়াত ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ ও ভারতীয় মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে ‘সোর্ড অব অনার’ পুরস্কার পান। ১৯৭৮ সালে সামরিক বাহিনীতে যোগ দেন তিনি। এরপর সামরিক বাহিনীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বিদ্রোহবিরোধী অভিযানে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন তিনি। বেশিরভাগ সময় ভারতের অশান্ত অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দিতেন তিনি। অস্থিতিশীল অঞ্চলে দায়িত্বরত হিসেবে দীর্ঘ কর্মজীবনের একটি বড় অংশই কাটিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরে।
আশির দশকে চীনের সঙ্গে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত সীমান্তরেখা বরাবর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই টানটান উত্তেজনার সময়ে রাওয়াত কর্নেল হিসেবে তার ব্যাটালিয়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি ৩ কর্পসের দায়িত্বে ছিলেন। সে সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলা করে মিয়ানমার। এর প্রতিউত্তর হিসেবে জেনারেল রাওয়াত ভারতীয় সীমান্তরেখার বাইরে ভারতের প্রথম আনুষ্ঠানিক সার্জিক্যাল স্ট্রাইক শুরু করেছিলেন। মিয়ানমারের নাগা বিদ্রোহীদের আক্রমণ করার জন্য একটি প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন পাঠান। একই বছর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান তিনি।
২০১৬ সালে ভারতের ২৭তম সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ডিঙিয়ে পদোন্নতির এই বিষয়টি তুমুল আলোচনার জন্ম দেয়। পরের বছর ভারত একটি আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দেয়। ভারত শাসিত কাশ্মীরে একজন বিক্ষোভকারীকে সেনাবাহিনীর জিপের সামনে বেঁধে ঘুরিয়েছিল এক সেনা অফিসার। জেনারেল বিপিন রাওয়াত এ কাজের জন্য সেই বিতর্কিত সেনা অফিসারকে পদক দিয়ে পুরস্কৃত করেন। কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধকে নোংরা যুদ্ধ বলে অভিহিত করেন। সেই যুদ্ধে ওই অফিসারের নির্মম কাজটিকে ‘উদ্ভাবন’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেন তিনি। কাশ্মীরে বিক্ষোভকারীদের পাথরে সেনাদের আহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘পাথরের বদলে ওরা যদি গুলি ছুড়ত, তাতে আমাদের পক্ষে মোকাবিলা করা অনেক সহজ হতো।’
২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসর নেওয়ার কথা ছিল রাওয়াতের। তার এক দিন আগে দেশের প্রথম সেনা সর্বাধিনায়ক পদে যুক্ত করে মোদি সরকার। ফলে তার সঙ্গে সরকারের শীর্ষস্থানীয় পদের লোকদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বারবার আলোচনায় এসেছে। তবে বরাবরের মতোই তিনি এসব অভিযোগকে অস্বীকার করে এসেছেন।
আসামের মুসলিক অধ্যুষিত অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট পার্টির উত্থানকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছিলেন। সেনাপ্রধান হিসেবে তার রাজনৈতিক সে বক্তব্যকে খুব সহজভাবে নেয়নি কেউ। ভারতীয় সংখ্যালঘু নেতারা তাকে বিজেপির তোতাপাখি হিসেবে দেখতেন।
সেনা বিধি সংশোধন করে বিপিন রাওয়াতকেই প্রথমবারের মতো ভারতের তিন বাহিনীর ‘কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা’র দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সবার ধারণা ছিল ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হতে পারেন তিনি। জীবদ্দশায় সে সুযোগ পেলেন না রাওয়াত।
দরজি খান্ডু, ২০১১
২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী দর্জি খান্ডু। তাওয়াং থেকে ইটানগর যাওয়ার পথে অরুণাচল প্রদেশের পশ্চিম কামেং জেলায় আকাশপথে দুর্ঘটনা ঘটে। পরে জানা যায় সিঙ্গেল ইঞ্জিনে গণ্ডগোলের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
১৯৫৫ সালের ১৯ মার্চ দর্জি খান্ডু ভারতের তাওয়াং জেলার গিয়াংখার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বড় ছেলে পেমা খান্ডু বর্তমানে অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বাহিনীতে কাজ করার মধ্য দিয়ে পেশাগত জীবন শুরু হয় তার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য সেবার জন্য তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। পরবর্তীকালে তিনি তাওয়াং জেলার গ্রামবাসীর সঙ্গে সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮০ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৮২ সালে তার গ্রামের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৮৩-৮৭ সালে পশ্চিম কামেং জেলা সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯০ সালের মার্চ মাসে অরুণাচল প্রদেশের বিধানসভায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসে আবার একই নির্বাচনী এলাকা থেকে দ্বিতীয় বিধানসভায় পুনরায় নির্বাচিত হন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০৭ সালের ৯ এপ্রিল অরুণাচল রাজ্যের ষষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী হন। ২০০৯ সালে আবার এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি। দুর্ঘটনায় জনপ্রিয় নেতার প্রয়াণে দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।
রাজশেখর রেড্ডি, ২০০৯
২০০৯ সালের ২ সেপ্টেম্বর হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস রাজশেখর রেড্ডি। অন্ধ্রপ্রদেশ-রায়ালসীমার কাছে নাল্লামালা জঙ্গলে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার ঘটে। কুর্নুল থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে রুদ্রকোন্ডা পাহাড়ের চূড়ায় সেই হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক অনুসন্ধানের পরেও লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তার মৃত্যুর খবর স্বীকার করে নেওয়া হয়।
তিনি ছিলেন ভারতীয় রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের সদস্য। পুলিভেন্দুলা বিধানসভা থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় ছয়বার নির্বাচিত হন রাজশেখর রেড্ডি। আবার কুদ্দাপা লোকসভা থেকে পরপর চারবার নির্বাচিত হন এই নেতা। ২০০৩ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক জেলায় তিন মাসব্যাপী পদযাত্রা করেন তিনি। ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচন ও অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে তার দলের জয়ের কাণ্ডারী ছিলেন রাজশেখর রেড্ডি। তার ছেলে জগনমোহন বর্তমানে অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী।
ওম প্রকাশ জিন্দাল, ২০০৫
২০০৫ সালের ৩১ মার্চ ভারতের হরিয়ানার তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী ও স্টিল টাইকুন ওম প্রকাশ জিন্দাল হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান। হরিয়ানার কৃষিমন্ত্রী ও হরিয়ানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বনসি লালের ছেলে সুরেন্দ্র সিংসহ আরও তিনজনের সঙ্গে ওপি জিন্দাল গ্রুপের একটি হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করছিলেন। রাজনৈতিক সভায় যোগদানের উদ্দেশে চ-ীগড় থেকে দিল্লি যাওয়ার পথে সাহারানপুর জেলার মেনঘি গ্রামে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই জিন্দাল ও সিং মারা যান।
মারা যাওয়ার কিছুদিন আগে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন। তৎকালীন ভারতের শীর্ষ ধনীদের একজন ছিলেন তিনি। মৃত্যুর কিছুদিন আগে ফোর্বসের র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ৫৪৮তম ধনী ব্যক্তি এবং ভারতের ১২তম ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্থান পায় তার নাম। সে সময় তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ছিল ১.২ বিলিয়ন ডলার।
ফোর্বসের ভাষ্যমতে তিনি ছিলেন একজন স্বপ্রতিষ্ঠিত বিলিয়নেয়ার। ভারতের ইস্পাত শিল্পকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান ওপি জিন্দাল গ্রুপ। গ্রুপের অংশ হিসেবে তার চার ছেলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জিন্দাল স্টেইনলেস লিমিটেড, জিন্দাল আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি লিমিটেড, জিন্দাল বিজয়নগর স্টিল লিমিটেড, জিন্দাল স্টিম অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড ও স পাইপ লিমিটেড। রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পরপরই নিজের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে তার। মৃত্যুর আগে রাজনীতি ও সমাজকল্যাণে নিজের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনে ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত খাদ্য, বেসামরিক সরবরাহ ও পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৫ সালে হরিয়ানা বিধান সভায় নির্বাচিত হন। মৃত্যুকালে হরিয়ানা সরকারের বিদ্যুৎমন্ত্রী ছিলেন তিনি।
জিএমসি বালাযোগী, ২০০২
২০০২ সালের ৩ মার্চ অন্ধ্রপ্রদেশের একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন লোকসভার সাবেক স্পিকার ও তেলেগু নেতা জিএমসি বালাযোগী। আবহাওয়া প্রচণ্ড খারাপ হওয়ায় পুকুরকে জমি ভেবে অবতরণ করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
১৯৫১ সালের ১ অক্টোবর ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গান্তি মোহন চন্দ্র বালাযোগী। কাকিনাড়া থেকে স্নাতকোত্তর এবং বিশাখাপত্তম অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৮০ সালে কাকিনাড়ায় গোপালস্বামী শেঠির নির্দেশনায় আইনজীবী হিসেবে অনুশীলন শুরু করেন। ১৯৮৫ সালে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচিত হন। তিনি এই পদ থেকে পদত্যাগ করে আবার আইন পেশায় ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালে কাকিনাড়ার সমবায় টাউন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮৭ সালে পূর্ব গোদাবরী জেলা প্রজা পরিষদের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। লোকসভার প্রথম দলিত স্পিকার ছিলেন তিনি। ১২তম লোকসভার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে বালাযোগী তেলেগু দেশম পার্টির হয়ে দশম লোকসভার নিম্নকক্ষের সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি এ আসনে হেরে যান। কিন্তু তার সম্প্রদায়ের হয়ে রাজনৈতিক কাজ চালিয়ে যান। শিগগিরই মুম্মিদিভারম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে একটি উপনির্বাচনে অন্ধ্রপ্রদেশ বিধানসভায় নির্বাচিত হন তিনি। পরবর্তীকালে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন।
১৯৯৮ সালে বালাযোগী সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ মার্চ তিনি লোকসভার ১২তম স্পিকার নির্বাচিত হন। পরের বছর ২২ অক্টোবর ১৩তম লোকসভার জন্য নির্বাচন করা হয় তাকে। স্পিকার হিসেবে তিনি ভারতের আইনসভা সংস্থার প্রিজাইডিং অফিসার সম্মেলনের ব্যবসা উপদেষ্টা কমিটি, নিয়মকানুন তৈরি করা কমিটি, সাধারণ কমিটি ও স্থায়ী কমিটির সভাপতিত্ব করেন। তিনি ভারতীয় সংসদীয় গ্রুপ, আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের জাতীয় গ্রুপ ও ভারতের কমনওয়েলথ সংসদীয় শাখার সভাপতিত্ব করেন। এই দায়িত্বগুলোর পাশাপাশি বালাযোগী বহু ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলকে দেশে-বিদেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন, পাশাপাশি সফরকারী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক সঞ্চালনা করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫০ বছর। তার স্মরণে জিএমসি বালাযোগী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামের নামকরণ করা হয়েছে।
