নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ: মুজিবুল হক

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:১৬ পিএম

পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন গোটা বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন সংসদ সদস্য ও সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সুপেয় জলের দেশ। কিন্তু একদিকে জলবায়ু পরিবর্তন, অন্যদিকে মানুষের অসচেতনা ও কিছু অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে আমরাও আজ নিরাপদ পানি ও এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যবিধি সংকটের দিকে যাচ্ছি।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) আয়োজিত ‘পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ করণীয়: এসডিজি-৬ প্রেক্ষিত’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক এম.পি এসব কথা বলেন।

সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে। এ নিয়ে কাজ করছে বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনও। আমরা চাই যৌথ কাজের মধ্য দিয়ে এই সংকট মোকাবিলার।

বৈঠকে পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে কাজ করা উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ বার্তা সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া। সভাপতিত্ব করেন বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (বিবিএফ) এর নির্বাহী পরিচালক মো. জাকারিয়া সুমন।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, পানির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই আশু সংকট মোকাবিলায় সরকার উন্নয়ন সংস্থার সঙ্গে সংলাপ ও মিলিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সহযোগী সম্পাদক শামীম জাহেদী বলেন, প্রচলিত আছে, যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হয় তা হবে পানির জন্য। পৃথিবীর সমস্ত পানির মাত্র দুই ভাগ পানের উপযুক্ত। সভ্যতা বিকাশের সাথে সাথে বেড়েছে পানির চাহিদা। আমরা ভূগর্ভ থেকে প্রতিনিয়ত পানি উত্তোলন করছি। যা পরিবেশের বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের এখন দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান প্রভাষ আমিন বলেন, নদীর সাথে সভ্যতার সম্পর্ক। পানি ছাড়া সভ্যতার অস্তিত্ব ভাবা যায় না। এক সময় যারা লেকের পাড়ে বাড়ি বানিয়েছেন, তারা এখন দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বড় শিকারে পরিণত হয়েছে। সভ্যতা যেমন পানিকে সহজলভ্য করেছে, তেমনি তৈরি করছে সংকটও। জলাধারগুলোর নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল, আছে মানুষের অসচেতনতা। ফলে নিরাপদ জলের যে সংকট ধেয়ে আসছে, তা মোকাবিলায় আমাদের এখনই তৈরি হতে হবে।

ঢাকা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ বলেন, ক্রমবর্ধমান মানুষের খাদ্য চাহিদার জন্য যেমন কৃষি কাজ জরুরি, জরুরি কলকারখানা। তেমনি মানুষের জন্য প্রয়োজন নিরাপদ সুপেয় পানি। সভ্যতার সঙ্গে মানব-প্রকৃতির সংঘাত এড়িয়ে কীভাবে আমরা মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে পারি, সে বিষয়য়ে দরকার মহাপরিকল্পনা।

প্লানিং কমিশনের উপদেষ্টা ড. জাহিরুল ইসলাম নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, এক সময় গ্রামের স্কুলে মেয়েদের টয়লেটের ব্যবস্থা থাকত না। এখন এ অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এরপরেও পানি নিয়ে জেন্ডার অসমতা রয়েছে। তা দূর করতে সচেতনতা বাড়ানো জরুর বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বৈঠকে ডরপ, এনজিও ফোরাম, এসএনভি, বি-স্কেন, ড্রিংক ওয়েল, রুডো, আরএসডিপিসহ অনেক উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত