ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মনিরা খাতুন (১৮) নামে এক রোগীর পেট থেকে সার্জিক্যাল কাঁচি বের করা হয়েছে। গতকাল শনিবার হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ডা. রতন কুমার সাহা এ অস্ত্রোপচার করেন।
গত বছরের ৩ মার্চ একই হাসপাতালে মনিরার পেটের টিউমার অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। সে সময় তার পেটে সার্জিক্যাল কাঁচিটি রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
অস্ত্রোপচারের পর ডা. রতন কুমার সাহা বলেন, ‘তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আমরা মনিরার পেটে থাকা কাঁচিটি বের করতে সক্ষম হয়েছি। জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত তার সুস্থতার বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ পেটে দীর্ঘদিন কাঁচি থাকায় নাড়ির কিছু অংশে পচন ধরে এবং তা কেটে ফেলতে হয়েছে।’
মনিরা গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের ঝুটিগ্রামের খাইরুল মিয়ার মেয়ে। পরিবারের দাবি, গত বছরের ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মনিরা খাতুনকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেটের টিউমার অপসারণের জন্য ভর্তি করা হয়। সাত দিন পর তার অস্ত্রোপচার হয় এবং সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরে যান। এ ঘটনার কিছুদিন পর মেয়েকে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পৈলানপট্টি গ্রামে বিয়ে দেন খাইরুল মিয়া। অন্তঃসত্ত্বা হলেও তার সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। এরপর মনিরাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্বামী। কিন্তু মাঝেমধ্যেই পেটে ব্যথা করত। সম্প্রতি মনিরা খুব অসুস্থ হয়ে পড়লে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক্স-রে করে চিকিৎসকরা তার পেটে সার্জিক্যাল কাঁচির অস্তিত্ব পান। এরপর গত বৃহস্পতিবার অস্ত্রোপচারের জন্য ফের হাসপাতালে ভর্তি হন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রথমবার মনিরার অস্ত্রোপচার করেন সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোল্লা শরফুদ্দিন আহম্মেদ ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. সৌরভ। এ বিষয়ে ডা. সৌরভ বলেন, ‘মেয়েটির অস্ত্রোপচারের সময় আমি ছাড়াও অনেক জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন। ভুলে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। পেটে সার্জিক্যাল কাঁচি থাকার যে কথা বলা হচ্ছে, আসলে সেটি ফরসেপ। রক্তপাত বন্ধে এটি ব্যবহার করা হয়।’
ডা. মোল্লা শরফুদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘এটি অনেক পুরনো ঘটনা, ঠিকঠাক মনে নেই। বিস্তারিত জেনে বলতে হবে।’
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. সাইফুর রহমান বলেন, ‘মনিরার পেট থেকে কাঁচি বের করা হয়েছে। আশা করছি, তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন। প্রথমবার অস্ত্রোপচারের সময় যেটি ঘটেছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমরা কাজ করছি।’
