গত কয়েক বছর ধরে ঘরের মাটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরানোর জন্য যেভাবে উঠেপড়ে লেগেছিল, তাতে পাকিস্তান বড় ধাক্কা খায় গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে।
নিরাপত্তার অজুহাতে সফর বাতিল করে দেশে ফিরে যায় নিউজিল্যান্ড। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি) তখন সদ্য যোগদান করেছেন রমিজ রাজা।
কিউইদের পরপরই সফর বাতিলের ঘোষণা দেয় ইংল্যান্ড। চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে আসার শুরুতেই দুই সফর বাতিল হওয়াটা বড় ধাক্কা হয়ে আসে রমিজ রাজার জন্য। তবে সেই দুঃসময় ছেঁটে ফেলে পাকিস্তান দারুণ সফলতা দেখায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।
আসরের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও বাংলাদেশ সফরে এসে তিন টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর দুই টেস্ট সিরিজও জিতে নেয় বাবর আজম-মোহাম্মদ রিজওয়ানরা। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই করাচিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সীমিত ওভারের দুই সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে পাকিস্তান।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে ১৩ ডিসেম্বর থেকে। ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে সমান সংখ্যক ওয়ানডে সিরিজ। ভেন্যু একটাই। করাচি জাতীয় স্টেডিয়াম। তার জন্য করাচি ঢেকে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে।
যে অজুহাতে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড সফর বাতিলের ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানের ক্রিকেট ফের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছিল, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা ব্যর্থ প্রমাণ করতেই যেন এত আয়োজন তাদের। উইন্ডিজ সিরিজে জন্য প্রায় ৮৮৯ জন কমান্ডোকে করাচিতে পাহারায় বসানো হয়েছে।
আতঙ্ক ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠ ও মাঠের বাইরে থাকছে কমান্ডো, পুলিশসহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থার প্রায় ৪ হাজার নিরাপত্তাকর্মী। এছাড়া মাঠের বাইরে সবকিছু পর্যবেক্ষণের জন্য থাকছে মনিটরও। সুষ্ঠুভাবে সিরিজ সম্পন্ন করতে বদ্ধ পরিকর পাকিস্তানের জন্য এখন নতুন চ্যালেঞ্জ— করোনা মহামারি।
নিরাপত্তাকর্মী দিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পারলেও পাকিস্তান কি পারবে করোনার হাত থেকে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজকে মুক্ত রাখতে? সিরিজ শুরুর একদিন আগেই যে দুঃসংবাদ শুনতে হলো সফরকারী দলকে!
বায়োবাবলে থাকার পরও সিরিজ শুরুর একদিন আগে তিন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারসহ মোট চারজনের কভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। সেই তিন ক্রিকেটার হলেন— শেলডন কটরেল, রোস্টন চেজ, কাইল মায়ার্স।
আরটি-পিসিআর পরীক্ষার ফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত পাকিস্তানেই ১০ দিনের স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে থাকতে হবে তাদের। এই তিনজনের সিরিজে খেলাও এখন শঙ্কায়। কারণ ২২ ডিসেম্বরে সিরিজের শেষ ম্যাচটি খেলবে দু’দল।
তবে সবকিছু মিলিয়ে এক সফল সিরিজ আয়োজন করতে বদ্ধ পরিকর পিসিবি। সামনে যে তাদের মাটিতে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টও আছে, সেই বিষয়টি মাথায় রেখে ঘুরে দাঁড়াতে চায় তারা।
