পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নে সংঘর্ষে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম নিহত হওয়ার ঘটনায় বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাঈদ খানকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। গত শনিবার রাতে ইয়াসিনের বাবা মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মামলায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
শনিবার ঘটনার পর ভাঁড়ারা ইউপির নলদহ চেয়ারম্যানপাড়া এলাকা থেকে অস্ত্র-গুলিসহ নলদহ গ্রামের দিরাজ সর্দারের ছেলে নজরুল (২৪) ও বকুল খাঁর ছেলে মুন্নাফ খাঁ (২২) নামের এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে আটক করে পুলিশ।
এদিকে নিহত ইয়াসিন আলমের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার সকালে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। বাদ জোহর আওরঙ্গবাদ গোরস্তানে জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। এর আগে সকালে কোলাদী গ্রামে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কয়েক হাজার-নারী পুরুষ। এ সময় ইয়াসিন হত্যাকাণ্ডের জন্য আবু সাঈদ চেয়ারম্যান ও তার ভাই আলতাব হোসেনকে দায়ী করে তাদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ইয়াসিন আলমের চাচাতো ভাই ও স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান মাহমুদ খান অভিযোগ করেন, গত ১২ বছরে চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশে ভাঁড়ারা ইউনিয়নে অনেকগুলো হত্যাকান্ড ঘটেছে। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় তাকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করেন সাঈদ। ২০১৮ সালে তার উপস্থিতিতে তার বাবা লস্কর খাঁ ও চাচা আব্দুল মালেক খাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য বলছে, আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলাসহ ৯টি মামলা রয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান আবু সাঈদ। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাকে ষড়যন্ত্র দাবি করেন তিনি।
গত শনিবার সকালে ভাঁড়ারা ইউনিয়নের চারা বটতলার ইন্দারা মোড় কালুরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলম নিহত হন।
