লঞ্চের কেবিনে স্ত্রীকে পরিকল্পিত হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী মো. মাসুদ হাওলাদারকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
সোমবার ভোরে কক্সবাজারের সুগন্ধা সৈকত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচতে মোসা. শারমিন আক্তার (২৭) নামে ওই নারীকে বিয়ে করে মাসুদ। কিন্তু স্ত্রীর হিসেবে সংসার করার ইচ্ছা ছিলো না মাসুদের। তালাক দিতে প্রয়োজন ছিল দেনমোহরের ৫ লাখ টাকা। তাই শারমিনকে পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করে মাসুদ।
গত ১০ ডিসেম্বর সকালে ঢাকা-বরিশাল চলাচলকারী এমভি কুয়াকাটা-২ লঞ্চটি বরিশাল নৌ-বন্দরে পৌঁছালে লঞ্চের নিচ তলার স্টাফ লস্কর কেবিন থেকে শারমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন বাবা এনায়েত হোসেন ফকির বাদী হয়ে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।
সোমবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি বলেন, মাসুদ আশুলিয়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পিকআপের হেল্পার হিসেবে কর্মরত। শারমিন ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া চাচার বাসায় থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। ২০১৯ সালের শুরুতে তাদের পরিচয় হয়। বিয়ের আগে শারমিন বিমানবন্দর থানায় মাসুদের নামে একটি ধর্ষণ মামলা করে। পরে ওই মামলার নিষ্পত্তির জন্য উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে ২০১৯ সালের ১৭ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা একত্রে বসবাস না করে নিজ নিজ কর্মস্থলে বসবাস করে আসছিল।
মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদে বরাত দিয়ে র্যাবের এ কর্মকর্তা বলেন, শারমিনকে বিয়ে করলেও তার সঙ্গে সংসার করার আগ্রহী ছিল না মাসুমের। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। হত্যাকাণ্ডের আগে শারমিন সর্দি এবং কাশিতে আক্রান্ত হয়। মাসুদ শারমিনের এ অসুস্থতার সুযোগে তাকে কাশির সিরাপের সাথে বিষপান করানোর পরিকল্পনা করে। আশুলিয়া বাজার থেকে বিষ কেনে। এরপর মাসুদ বরিশালে ড্রাইভিং লাইসেন্সের কাগজ জমা দিতে যাবে বলে শারমিনকে বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। শারমিন মাসুদের সঙ্গে বরিশালে যেতে রাজি হয়। ৯ ডিসেম্বর দুপুরে তারা মিরপুর-১ নম্বর থেকে বরিশালে উদ্দেশ্যে বের হয়। মাসুদ ৫০ টাকা দিয়ে কাশির সিরাপ কেনে এবং আগে কেনা বিষ ও চেতনানাশকের কিছু অংশ কাশির সিরাপের বোতলে ভরে নেয়।
মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানায়, হত্যার সময় যাতে শারমিনের আর্তচিৎকারে আশেপাশের কেউ কোন কিছু শুনতে না পায় এই জন্য সে পরিকল্পিতভাবেই সদরঘাট থেকে বরিশালগামী এমভি কুয়াকাটা-২ লঞ্চের লস্কর কেবিন ভাড়া নেয়। (ইঞ্জিন রুমের পাশে হওয়ায় ভিতরের শব্দ বাইরে শোনা যায় না)। ৯ ডিসেম্বর রাত ৯টার দিকে লঞ্চটি বরিশালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। লঞ্চ যাত্রা শুরুর পর ঘাতক মাসুদ তার সাথে থাকা বিষযুক্ত কাশির সিরাপ শারমিনকে খাওয়ায়, এসময় শারমিন ৩ থেকে ৪ বার বমি করে। পরে জোর করে অবশিষ্ট বিষ শারমিনের মুখে ঢেলে দেয়। কিছুক্ষণ পর শারমিন নিস্তেজ হয়ে গেলে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে লঞ্চের রেস্টুরেন্টে রাতের খাবার খেতে যায় মাসুদ। ফিরে এসে ফের কেবিনে প্রবেশ করে সে। তখনো শারমিনের শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে দেখে মাসুদ তার শার্ট বের করে শারমিনকে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। লঞ্চটি চরমোনাই ঘাটে এসে পৌঁছালে মাসুদ কেবিন থেকে বের হয়ে লঞ্চের দরজায় অবস্থান নেয়। পরে লঞ্চটি বরিশাল শহরের ঘাটে এসে পৌঁছালে মাসুদ স্বাভাবিকভাবে লঞ্চ থেকে বের হয়ে সড়ক পথে তার নিজ বাড়িতে চলে যায়।
