পাবনার ভাঁড়ারায় স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী হত্যার রেশ কাটতে না কাটতেই নির্বাচনী সহিংসতায় জেলাটিতে প্রাণ গেল এক কলেজ ছাত্রের। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হন মোহাম্মদ নাসিম (১৮) নামের ওই শিক্ষার্থী। তিনি তারাবাড়িয়া গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় চরতারাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ২৬ ডিসেম্বরের নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী রবিউল আলম টুটুল ও সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
দেশ রূপান্তরের হিসাবে নাসিমকে নিয়ে চলতি বছর সারা দেশে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬২ জনে। পাবনা সদর থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নিহত নাসিম সদর উপজেলার তারাবাড়িয়া গ্রামের নায়েব আলীর ছেলে। দুবলিয়া কলেজ থেকে চলতি শিক্ষাবর্ষের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় তারাবাড়িয়া বাজারে নৌকার প্রার্থী রবিউল আলম টুটুল ও আনারস প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকরা মিছিল শুরু করলে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাধে। সে সময় বাজার করতে আসা নাসিম সংঘর্ষের ছবি তোলায় কয়েক যুবক তার ওপর হামলা করে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। এ সময় তাকে বাধা দিতে গেলে আরও কয়েকজন ছুরিকাহত হন। তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অপর একজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রোকনউজ্জামান সরকার বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় চরতারাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রবিউল আলম টুটুল ও সুজানগর পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ফিরোজসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এদিকে নাসিমকে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান ও নৌকার প্রার্থী রবিউল আলমের সমর্থকরা নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে। তবে তার পরিবারের ভাষ্য তিনি কোনো পক্ষেরই সমর্থক ছিলেন না।
স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘আমার প্রচারণায় নৌকার প্রার্থীর পক্ষ হয়ে সুজানগর উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন ও পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ফেরদৌস আলম ও চেয়ারম্যান রবিউল আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করে। উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন নিজেই ঘটনাস্থলে এসে শটগান দিয়ে গুলি করেছেন। সেই ঘটনার ছবি তোলায় আমার সমর্থক নাসিমকে সুজানগর পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি এস এম সোহাগ ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে।’
তবে ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত কাজে পাবনা শহরে যাওয়ার সময়ে উত্তেজনা দেখে বাড়ি ফিরে এসেছি। সংঘর্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’
নাসিমের পিতা নায়েব আলী বলেন, ‘আমার ছেলে রাজনীতিতে যুক্ত নয়। বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিল। নির্বাচনেও আমার পরিবার কারও পক্ষে ছিল না। বিনা কারণে আমার ছেলেকে হত্যা করা হলো। আমি কার কাছে এর বিচার চাইব?’
