মিরপুরে ২ লাখ টাকার চুক্তিতে কিশোর খুন!

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:৫৫ এএম

রাজধানীর মিরপুরে ২ লাখ টাকার চুক্তিতে শাহাদাত হোসেন ওরফে হাসিব (১৭) নামে এক কিশোরকে খুন করে পাঁচজনের একটি দল। সেই দলের দুই সদস্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাদের মধ্যে একজনের নাম হৃদয়, যে ‘মিরপুরের ডন’ হতে চায় বলে সহযোগীদের বলেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর গতকাল শুক্রবার পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে। একই দিন অভিযুক্তরা গতকাল আদালতে জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। 

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে গত ১২ ডিসেম্বর রাতে মিরপুরের শাহআলী এলাকার ই-ব্লকের ৬ নম্বর রোডে হাসিবকে ছুরি মেরে হত্যা করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার বরিশালের ঝালকাঠি থেকে পুলিশ হৃদয়কে (১৬) গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীকালে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলো মোফাজ্জল হোসেন ম-ল (৩০), হুমায়ন কবির (৬৫), মো. আল আমিন আহমদ (১৮), মো. সাদ্দাম (১৬)।  হৃদয়  ও সাদ্দাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান মিরপুর বিভাগের দারুস সালাম জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) তৈমুর রহমান। তিনি জানান,  আলোচিত এ হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, শাহাদাতকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় মূলত হাসিবের বাবা ও চাচাদের পৈতৃক জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে। হত্যাকান্ডে সম্পৃক্ত পাঁচজনের মধ্যে চারজন সরাসরি জড়িত।

এডিসি তৈমুর রহমান বলেন, শাহাদতের বাবার সঙ্গে বিপুল নামে এক প্রবাসীর বাবার নোয়াখালীতে জমি সংক্রান্ত মামলা আছে। এ মামলার জের ধরে একপর্যায়ে শাহাদাতকে মেরে  ফেলার পরিকল্পনা করা হয়। মোফাজ্জল হোসেন মণ্ডলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহাদাতকে হত্যার জন্য হৃদয়ের সঙ্গে ২ লাখ টাকার চুক্তি করে মোফাজ্জল। 

ঘটনার বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, শাহাদাত হোসেন ওরফে হাসিব ছয় মাস আগে মিরপুর-১ নম্বরে ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন মল্লিক টাওয়ারের পোশাক বিক্রি ও তৈরির প্রতিষ্ঠান ‘টপ টেন’-এর কারখানায় কাটিং সেকশনে চাকরি করত। করোনা মহামারীর কারণে চাকরি ছেড়ে গত জুন মাসে বাড়িতে চলে যান হাসিব। পরে গত ১ ডিসেম্বর আবার ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেয় সে। গত ১২ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় কারখানা থেকে বাসায় যাওয়ার পথে অচেনা কয়েকজন তাকে ছুরিকাঘাত করে। হাসিবের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। আশপাশের লোকজন তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।

পুলিশ বলেছে, হাসিবকে ছুরিকাঘাত করে হƒদয়। আল আমিন, সাদ্দাম ও হুমায়ুন ঘটনাস্থলে ছিল। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে প্রথমে হƒদয়কে শনাক্ত করা হয়। পরে ৪০টি মোবাইল নম্বরের তথ্য বিশ্লেষণ করে হƒদয়ের নম্বর পাওয়া যায়। ঘটনার পর সে নিজেকে আড়াল করতে ঢাকা থেকে চাঁদপুরে যায়। সেখান থেকে ভোলায় গিয়ে অবস্থান নেয়। পুলিশ যাতে তাকে ধরতে না পারে, তাই সেখানে বেশিদিন অবস্থান না করে ঝালকাঠি যায়। হত্যাকাণ্ডের পর চুক্তি অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়নি বলে হƒদয় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।

পুলিশ বলেছে, এ ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত বিপুলের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত