‘আমি ইতিমধ্যে শুনতে পেয়েছি আওয়ামী লীগ প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছেন আগের মতো বহিরাগতদের দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করবেন। কেন্দ্র দখল করে যদি ইউপি নির্বাচনে ভোট কারচুপির চেষ্টা করা হয়, তাহলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আমার কোনো উপায় থাকবে না। আমি চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনে যে-ই বিজয়ী হোক আমার কোনো আপত্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়ে রাখতে চাই, ‘কারচুপি করে নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করার চেষ্টা করলে আত্মহত্যা করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করব।’ নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে গত শুক্রবার রাতে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এভাবেই আত্মহত্যার হুমকি দেন ফেনীর সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান শামছুল আরেফিন।
তিনি বলেন, আমি ৪১ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। রাজনীতি করতে গিয়ে আমাকে ৪১ একর পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছে। সম্পত্তি বিক্রি করা টাকা দল ও নেতাকর্মীদের বিপদে-আপদে খরচ করেছি। যদি জানতাম টাকার কাছে নৌকা বিক্রি হয়ে যাবে, তাহলে দলের পেছনে না দৌড়ে টাকার পেছনে দৌড়াতাম। দুইবার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে কোনো অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়াইনি। আমি যে দৈনন্দিন বাজার সদাই করব সে টাকাও আমার কাছে নেই। এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীরা আমার নির্বাচনের খরচ বহন করছে। দল যাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছে সে যদি এক দিনের জন্য সোনাগাজীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত, তাহলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতাম। নৌকার প্রার্থী হয়তো জেলার কয়েকজন নেতার ব্যক্তিগত উপকারে লেগেছে, তাই বলে উপকারের ঋণশোধ দলের স্বার্থকে বিলিয়ে দিয়ে করতে হবে কেন?
নির্বাচনে বৈধ-অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা থেকে অনুমান করতে পারি নির্বাচনের দিন জেলার যেসব ইউনিয়নে ইতিমধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে এবং যারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছে তাদের বৈধ-অবৈধ অস্ত্রগুলো সোনাগাজীতে কেন্দ্র দখলের জন্য ব্যবহার করা হবে। তিনি এসব অস্ত্র জব্দ ও উদ্ধার করে নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য ফেনীর পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানান। সোনাগাজী সদর ইউনিয়নে শামসুল আরেফিনের পাশাপাশি চেয়ারম্যান পদে আরও চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উম্মে রুমা। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছাড়াও রয়েছেন একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচনে আগামী ২৬ ডিসেম্বর এ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
