নাটোরে শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কায় ৫৪ শিক্ষার্থী

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১১:৫৮ পিএম

নাটোরের দুই সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য নির্বাচিত ৫৪ শিশুশিক্ষার্থী ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কায় দিন গুনছে। গতকাল রবিবার সকালে অভিভাবকরা এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনের চেষ্টা করলেও পুলিশি তৎপরতায় তা করতে পারেননি।

তবে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন বিষয়টি সুরাহার জন্য নির্দেশনা দিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। নাটোর জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদও চেষ্টা করছেন বিষয়টি সমাধানের। 

ভুক্তভোগী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাটোর শহরের দুটি বিদ্যালয়েই তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য ১২০ জন করে শিশুশিক্ষার্থী লটারির মাধ্যমে বাছাই করে ঢাকা থেকে দেশের অন্যান্য বিদ্যালয়ের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে ১৫ ডিসেম্বর ফল প্রকাশ করা হয়। গত শনি ও গতকাল রবিবার নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে প্রকাশিত ফলে নির্বাচিতদের ভর্তি ফরম সংগ্রহ করে পরদিন ভর্তি হতে বলা হয়। কিন্তু শনি ও রবিবার বিদ্যালয়ে ভর্তি ফরম নিতে গিয়ে প্রায় ২৮ জন অভিভাবক জানতে পারেন, তাদের সন্তানের বয়স আট বছর পূর্ণ না হওয়ায় তাদের ভর্তি ফরম দেওয়া হবে না, ভর্তিও নেওয়া হবে না।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন বলেন, সরকারের দেওয়া নীতিমালায় তাদের বয়স আট বছর না হওয়ায় এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এদের মধ্যে ১৭ জন অভিভাবক শনিবার যৌথভাবে একটি আবেদনে স্বাক্ষর করে গতকাল রবিবার নাটোরের জেলা প্রশাসককে দিয়েছেন।

নাটোর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশীদ ২২ ও ২৩ ডিসেম্বর তার বিদ্যালয়ে নির্বাচিতদের ভর্তি ফরম সংগ্রহ করে পরের দিন ভর্তির আহ্বান জানিয়ে যে নোটিস প্রকাশ করেছেন তাতে পরিষ্কারভাবে লিখে দিয়েছেন আট বছরের নিচে কাউকে ভর্তি করা হবে না। এই স্কুলের নির্বাচিতের তালিকায়ও আট বছর পূর্ণ না হওয়া ২৬ জন শিশুশিক্ষার্থী রয়েছে।

এসব শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা বলছেন, তাদের অনেকের সন্তানের বয়স আট বছর থেকে কারও এক দিন, দুই দিন বা এক সপ্তাহ মাত্র কম। তবুও তাদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তারা প্রশ্ন করেন, ভর্তি যদি না নেওয়া হয়, তাহলে তাদের নির্র্বাচিত করা হলো কেন? লটারির সময় কম বয়সীদের বাদ দিলেই কারও কোনো আপত্তি ছিল না। নির্বাচিত শিশুদের ‘অভিনন্দন, আপনি নিম্নলিখিত বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন’ লিখে মেসেজ পাঠিয়ে অভিনন্দন জানিয়ে এখন ভর্তি না নিলে তারা মানসিক বিপর্যয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেন জানান, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা না বলে তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবেন না।

নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, লটারির মাধ্যমে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রকাশিত ফলাফলে নির্বাচিত এসব শিশু শিক্ষার্থীর জন্য বিষয়টি বেদনার। তারা নির্বাচিত হওয়ার খবরে যেমন উচ্ছ্বসিত হয়েছিল, এখন ততটাই হতাশায় পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে দ্রুত কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত