যৌতুক না পেয়ে চুল-ভ্রূ কেটে স্ত্রীকে নির্যাতন

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৪৮ এএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে চুল ও ভ্রূ কেটে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। গত রবিবার গুলনাহার পারভীন মিনু (৩০) নামে ওই গৃহবধূকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৩ ডিসেম্বর বেলতৈল ইউনিয়নের খাস সাতবাড়িয়া গ্রামে স্বামীর বাড়িতে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। খবর পেয়ে মিনুর বাবার বাড়ির লোকজন তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় সেখান থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

মিনুর স্বামী মেহেদী হাসান সুজন (৪৩) সাতবাড়িয়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুর রশিদের ছেলে।

নির্যাতনের শিকার মিনুর স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, ২০০৬ সালে সাতবাড়িয়া গ্রামের সুজনের সঙ্গে জেলার তাড়াশ উপজেলা সদরের তাড়াশ গ্রামের প্রয়াত গোলাম মোস্তফার মেয়ে মিনুর (৩০) বিয়ে হয়। এই দম্পতির দুটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে স্বামী সুজন যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই স্ত্রী মিনুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এছাড়া মিনু দেখতে সুন্দর হওয়ায় তিনি পরকীয়ায় জড়িয়েছেন বলে সন্দেহ করতেন স্বামী। এদিকে মিনুর দরিদ্র মায়ের পক্ষে দাবি অনুযায়ী যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাজপতিরা সালিশে বসলেও মিনুর ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে ২০১৮ সালে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে বাবার বাড়ি গিয়ে আশ্রয় নেন তিনি।

মেয়ের ওপর চলা নির্যাতনের বর্ণনা দিতে গিয়ে মিনুর মা আনোয়ারা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিয়ের সময় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাট ও আলমিরাসহ দুই লাখ টাকার বেশি জিনিসপত্র দিয়েছি। ছোট ছোট বাচ্চাদের কথা বিবেচনা করে আবারও তাকে স্বামীর বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, তাকে আবারও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মিনু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই কখনো নগদ টাকা, কখনো মোটরসাইকেল আবার কখনো মোবাইল ফোন বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল আমার স্বামী। এছাড়া পরকীয়ায় জড়িত সন্দেহে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন।’

সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোকনুজ্জামান জানান, নির্যাতনের শিকার মিনুর সারা শরীরে নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। তবে নির্যাতনের ফলে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিনুর স্বামী পেশায় পোশাককর্মী মেহেদী হাসান সুজন বলেন, ‘আমার স্ত্রী এক প্রবাসীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত। প্রায়ই সে তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে। তাই রাগের মাথায় এ ঘটনা ঘটিয়েছি। যৌতুকের অভিযোগ সত্য নয়।’

শাহজাদপুর থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা হাসপাতালে ছুটে গিয়ে নির্যাতিত গৃহবধূ ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের দ্রুত মামলা করার জন্য অনুরোধ করেছি। গৃহবধূর মা জানিয়েছেন তার মেয়ে একটু সুস্থ হলেই তিনি এ ঘটনায় মামলা করবেন। লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত