চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফের গুলিতে ইব্রাহীম আলী (২৫) নামে এক বাংলাদেশি নিহতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার আজমতপুর বাগিচাপাড়া সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। ইব্রাহীম উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের আজমতপুর ঢুলিপাড়া গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে শাহবাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহা. তোজাম্মেল হক জানান, আজমতপুর বাগিচাপাড়া সীমান্ত পিলার ১৮২/১-এস ও ১৮২/২-এস এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে মঙ্গলবার রাতে বিএসএফ সদস্যদের গুলিতে ইব্রাহীম মারা যান। পরে তারা লাশ নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আমির হোসেন মোল্লা জানান, এ ধরনের একটা ঘটনা তারা শুনেছেন। তবে নিহত যুবক বাংলাদেশি কি না এবং বিএসএফের গুলিতেই নিহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় গতকাল বুধবার বিএসএফের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এক পোস্টে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে ভারত ও বাংলাদেশের একদল চোরাকারবারি ‘বেআইনি মালামাল পাচারের চেষ্টা’ করছিল। সে সময় তারা বিএসএফের জওয়ানদের ‘ঘিরে ফেলে এবং দা, বাঁশের লাঠি ও পাথর নিয়ে হামলা করে’। জওয়ানরা তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায় এবং স্টান গ্রেনেড ছোড়ে। কিন্তু তারা হামলা অব্যাহত রাখে। আমাদের জওয়ান আত্মরক্ষার্থে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। একটি গুলি একজন দুষ্কৃতির গায়ে লাগে এবং তাকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ফেনসিডিল ও দায়ের ছবিও টুইটারে প্রকাশ করেছে বিএসএফ।
গত ১২ ডিসেম্বর ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাগাডাঙ্গা সীমান্তে ভারত অংশে বিএসএফের গুলিতে মিকাইল হোসেন (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হন। মিকাইলের মামাতো ভাই মুছা নুর মল্লিক জানান, মিকাইলসহ ১০ থেকে ১২ জন সীমান্ত পার হয়ে গত ৫ ডিসেম্বর ভারতে যান। ৯ ডিসেম্বর রাতে গরু নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার টেংরা খাল ব্রিজ এলাকা দিয়ে দেশে ফেরার চেষ্টা করেন।
এ সময় নদীয়ার শিলবাড়িতে বিএসএফের টহল দলের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে অন্যরা পালিয়ে আসেন। কিন্তু মিকাইল হোসেনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনার তিন দিন পর সীমান্তবর্তী টেংরা খালে মিকাইলের লাশ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
