এবার নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহ করা হলে ছাপাখানা ও সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার মাতুয়াইলে বই ছাপানোর কাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গতবারের মতো এবারও বই উৎসব পালন করা হবে না। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শ্রেণিকক্ষেই বিতরণ করা হবে ২০২২ শিক্ষাবর্ষের বই। এ সময়ের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী বই হাতে পাবে। ৭ জানুয়ারির মধ্যে বাকি শিক্ষার্থীরাও বই হাতে পাবে বলে আশা করেন তিনি।
‘কালো তালিকায়’ থাকা বেশ কটি মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান নাম পাল্টে পাঠ্যবই ছাপার দরপত্রে অংশ নেয় এ অভিযোগ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে দীপু মনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চাই বইয়ের মান ঠিক থাক। সরকার অনেক অর্থ ব্যয় করে বই করছে। বিনামূল্যের বই মানে কম মানের নয়। সেখানে যদি কেউ মান খারাপ দেয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রতারণার আশ্রয় নেয়, আমরা যদি জানতে পারি, এটি আসলেই সেই প্রতিষ্ঠান অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান যদি নামই পাল্টে নতুন প্রেস করে, সে ক্ষেত্রে কীভাবে চিহ্নিত করব, আইনগত দিক থেকে কীভাবে ঠেকাব? প্রতারণা হিসেবে কিছু করার বিষয়ে আমরা কথা বলে দেখতে পারি। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যায় করলে লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ওখানে কিছু আইন আছে, সেগুলো ব্যবহার করা যায়। আমাদের এখানে মান খারাপ করলে জরিমানা হয়। যদি প্রতারণা বাড়ে আরও কিছু করা যায় কি না দেখতে হবে।’
পাঠ্যবইয়ের ভুল সংশোধন করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ভুল সংশোধন করা হয়েছে। তবে এবারও যদি ভুল বের হয় তাহলে সংশোধন করা হবে।’
৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে স্কুলে স্কুলে পৌঁছে যাবে বই : শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৯৫ শতাংশের বেশি বই পৌঁছে যাবে। বাকি বই ৭ জানুয়ারির মধ্যে পৌঁছে যাবে। শিক্ষার্থীরা সময়মতো বই হাতে পেয়ে যাবে। ১৭ কোটির বেশি বই বাঁধাই হয়ে গেছে। আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে সবটাই হয়ে যাবে। তার পরও স্বল্পসংখ্যক বাদ থাকতে পারে। সেটাও আমরা জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শিশুদের হাতে দিতে পারব।
দীপু মনি বলেন, এনসিটিবির পক্ষ থেকে সপ্তাহে দুদিন প্রেস পরিদর্শন করা হয়। ২০০টি প্রেসে কাজ চলছে। এর মধ্যে ১৫৮টি মাধ্যমিক আর ৪২টি প্রাথমিক পর্যায়ের বই কাজ করছে। আর যে কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া আছে, তারা নিয়মিত পরিদর্শনে আসে। প্রাক-প্রাথমিক নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। সেটা সমাধান হয়ে গেছে।
ফেব্রুয়ারিতে শুরু নতুন শিক্ষাক্রমের পাইলটিং : নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম ২০২৩ সাল থেকে সারা দেশে শুরু হওয়ার কথা। তার আগে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের ৬০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ শিক্ষাক্রমের পাইলটিং শুরু হবে বলে জানিয়েছেন দীপু মনি। যদিও পাইলটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল মাধ্যমিকের ১০০টি এবং প্রাথমিকের ১০০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তবে গবেষণার জন্য ৬০টি প্রতিষ্ঠানে পাইলটিং হলে সমস্যা নেই উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাইলটিংয়ে থাকছে মাধ্যমিকের সপ্তম শ্রেণি এবং প্রাথমিকের প্রথম শ্রেণি। এই দুই শ্রেণির বইগুলো ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে।
পুরো সময় পাঠদান মার্চ পর্যন্ত দেখার পর : ওমিক্রন পরিস্থিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পুরোপুরি পাঠদান শুরুর বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ওমিক্রন নিয়ে এখনো শেষ কথা বলার সময় আসেনি। সদ্য ইউরোপ, আমেরিকায় যা দেখছি, ব্যাপকভাবে ছড়াচ্ছে। আর একটু দেখার দরকার। আমরা ভালো আছি, কিন্তু সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের এখানে করোনা সংক্রমণ বাড়ে মার্চ মাসে। কাজেই মার্চ না আসা পর্যন্ত বলতে পারব না, আমরা নিরাপদ অবস্থায় আছি।’
তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমরা পুরোপুরি স্বাভাবিক জায়গায় যেতে পারি না। যেখানে শিক্ষার্থী কম সেখানে হয়তো স্বাভাবিক অবস্থায় যাওয়া যাবে। অন্য প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক অবস্থায় যাওয়া যাবে না। আমরা স্কুলকে বলতে পারি না, শিক্ষার্থী অর্ধেক বাড়িয়ে দাও। মার্চে যদি না বাড়ে তাহলে আমরা বলতে পারব, পুরো সময় ধরে বিদ্যালয় চলবে।’
