পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১ হাজার ৯৯৭টি বিশেষ মামলার বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে চায় সরকার। এতে সরকারের মেগা প্রকল্প, বিশেষ আর্থিক খাত, আইন বিধিবিধান বা বিশেষ পরিপত্র, জাতীয় ঐতিহাসিক অবস্থানগত গুরুত্ব, সরকারের বিশেষ স্বার্থ বিদ্যমান ও বিপুুল পরিমাণ সরকারের আর্থিক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে থাকা মামলাগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সব জেলা প্রশাসক, আট বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন, সংসদ সচিবালয় ও ৫৪টি মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের পর এ মামলাগুলোর তথ্য পৃথক করেছে সরকারের উচ্চমহল। সব মামলা বর্তমানে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন, রিভিউ, রিভিশন, লিভ টু আপিল অবস্থায় রয়েছে। এ মামলাগুলোর বিষয়ে সার্বক্ষণিক তথ্য হালনাগাদ, পক্ষভুক্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে তাৎক্ষণিক অবহিত করাসহ বিশেষ ব্যবস্থা নিতে একজন কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে ঠিক করা হয়েছে। এসব মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি দিয়ে বিস্তারিত দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। সরকারের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, শুধু দেশের উচ্চ আদালতেই মোট মামলা ঝুলছে ৯৪ হাজার ৯৯৭টি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে। এ সংস্থার কাঁধে মামলার সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৩টি। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগে ১১ হাজার ৪০৫টি, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ১১ হাজার ৩৮৬টি ও জননিরাপত্তা বিভাগে ৫ হাজার ৩৮টি মামলা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সরকারের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলা নিয়েই কাজ করছি। এজন্য আমাদের একজন উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি ১৩ জন প্যানেল আইনজীবী নিয়ে নিয়মিত কাজ করে থাকেন। তবে সরকারের বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেসব মামলা রয়েছে এগুলো নিয়ে আমরা ভিন্নভাবে চিন্তাভাবনা করছি। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলা হয়।’
শুধু উচ্চ আদালতেই ৯৪ হাজার ৯৯৭ মামলা ঝুলছে : দেশের উচ্চ আদালতেই সরকারের কাঁধে ৯৪ হাজার ৯৯৭টি মামলা ঝুলছে। মামলায় বিবাদী হিসেবে বিভিন্ন জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, দুর্নীতি দমন কমিশন, সংসদ সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও ৫৪টি মন্ত্রণালয় ও এর অধীনে থাকা সংস্থাগুলো রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের আওতায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে। এ সংস্থার কাঁধে মামলার সংখ্যা ১৬ হাজার ৭৩টি। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগে ১১ হাজার ৪০৫টি, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ১১ হাজার ৩৮৬টি ও জননিরাপত্তা বিভাগে ৫ হাজার ৩৮টি, অর্থ বিভাগে ৫ হাজার ১০টি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪ হাজার ৭১৭টি, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের আওতাধীন ৪ হাজার ৬০৩টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে ৩ হাজার ৫৩২টি, ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের আওতাধীন ২ হাজার ৪৯৫টি, দুর্নীতি দমন কমিশনের ২ হাজার ৩৭৯টি, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৩৫৬টি, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৩৬৫টি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ২ হাজার ৫৬টি, স্বাস্ব্যসেবা বিভাগের ১ হাজার ৬৩৮টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ৫৬টি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের ১ হাজার ১৩টি মামলা চলমান। সব মামলা বর্তমানে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন, রিভিউ, রিভিশন, লিভ টু আপিল অবস্থায় রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে মোট ১ হাজার ৯৯৭টি বিশেষ মামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৫ ক্যাটাগরিতে ১৯৯৭টি ‘বিশেষ’ মামলা : উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা ৯৪ হাজার ৯৯৭টি মামলার মধ্যে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ মামলা হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯৯৭টি মামলা। গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে এক নম্বরে সংসদের আইন, অধ্যাদেশ, রাষ্ট্রপতির আদেশ, বিধি, প্রবিধি এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র, নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলা। দ্বিতীয়; সরকারি সম্পত্তিসংক্রান্ত মামলাগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক, অবস্থানগত গুরুত্ব এবং উচ্চমূল্যমান বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত মামলা। তৃতীয়; সরকারের গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্প, ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত মামলাগুলোর মধ্যে মেগা প্রকল্প, জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত প্রকল্প, সরকারের অগ্রাধিকার কার্যক্রম ও কেপিআইসংশ্লিষ্ট মামলা। চতুর্থ; বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে এমন মামলা। পঞ্চম; বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ অন্য কোনো সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান রয়েছে এসব মামলা।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠির পর পূর্ত মন্ত্রণালয় গত ১৯ ডিসেম্বর একটি সভা করেছে। পূর্ত সচিব মো. শহীদউল্লা খন্দকারের সভাপতিত্বে এ সভায় গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। সেখানে বিবেচ্য সময়কালে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যা, বিবেচ্য সময়কালের পূর্ণ পর্যন্ত অনিষ্পন্ন মামলার সংখ্যা, সরকারের বিপক্ষে নিষ্পত্তিকৃত মামলার সংখ্যাসহ নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আইন কর্মকর্তা (উপসচিব) শেখ নূর মোহাম্মদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মামলার কিছু দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’
