ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধদের চিকিৎসা দিতে মেডিকেল টিমের ৭ সদস্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে এসে পৌঁছেছেন।
শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।
তিনি জানান, ওই ৭ চিকিৎসক রাতেই বরিশালে এসে পৌঁছেছেন এবং হাসপাতালে রোগীদের সেবা প্রদান কার্যক্রমও শুরু করেছেন।
এই চিকিৎসক দলের মধ্যে রয়েছেন- শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক (প্লাস্টিক সার্জারি) ডা. নুরুল আলম, ডা. মাসরুর উর রহমান, রেজিস্ট্রার ডা. মোরশেদ কামাল, ফেস বি রেসিডেন্ট ডা. মৃদুল কান্তি সরকার, ডা. শাওন বিন রহমান এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ডা. আল মোনতাসির বিল্লাহ ও ডা. ইসতিয়াক সুলতান।
সাত সদস্যের মেডিকেল টিমের প্রধান ডা. নুরুল আলম বলেন, ‘আমরা আজকে রোগীদের পর্যবেক্ষণ করব। প্রয়োজন হলে আজকেই জরুরি অপারেশন করব। এ কারণে অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।’
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম জানান, ওই ৭ চিকিৎসকের মধ্যে ছয়জন রাত ১টার দিকে বরিশালে এসে পৌঁছান। তারা সেবা কার্যক্রম শুরু করেছেন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রোগী দেখা শুরু করেন দলের আরেক চিকিৎসক।
সাইফুল আরও জানান, হাসপাতালের বার্ন ইউনিট বন্ধ থাকায় লঞ্চে গুরুতর দগ্ধদের চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে ঢাকা থেকে এ মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী যাত্রীবাহী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন সুগন্ধা নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর থেকে আহতদের ঝালকাঠি, বরিশাল সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান শুরু হয়। এ পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক রোগীদের ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
