স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের আয়োজনে মুজিববর্ষ বানান ভুলের জন্য আয়োজকরা ক্ষমা চাওয়াতে তাদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
শনিবার ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ ফজলুল করিম সেলিম এ কথা জানান।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাংসদ শেখ সেলিম বলেন, “যে বিষয়টা হয়েছে, তা নিয়ে আমরা গত মিটিংয়ে আলোচনা করেছি। উদযাপন কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে। একটা হচ্ছে ইচ্ছাকৃত ভুল আর একটা অনিচ্ছাকৃত ভুল।”
তিনি বলেন, “এ ব্যাপারে, এটা যে ভুল হইছে সে ব্যাপারে উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। যেহেতু ভুল স্বীকার করেছেন, সেখানে আর কার্যকর কি ব্যবস্থা হবে। এটা ভুলের জন্য তো তারা ক্ষমা চাইছে।”
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রর্তাবর্তন দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতিবার যে কর্মসূচি থাকবে তাই থাকবে। কিন্তু এবার একটু ব্যাতিক্রম হইলো বঙ্গবন্ধু সেখানে শুয়ে আছে, টুঙ্গিপাড়ায় সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমরা অনুষ্ঠান করব। সেখানে দেশের বুদ্ধিজীবি, দলের নেতারা ও সুশীল সমাজের মানুষদের নিয়ে আলোচনা হবে।”
তিনি বলেন, “সেখানে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গান, কবিতাসহ অনুষঙ্গিক যত কিছু আছে, সেগুলো হবে। সেখানে সুন্দরভাবে এই বিষয়গুলো আমরা করতে পারবো।”
এ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকবেন জানিয়ে শেখ সেলিম বলেন, “উনি ওখানে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন ও দোয়া করবেন।”
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কুলে আওয়ামী লীগ ১১ ও ১২ জানুয়ারি আলোচনা সভা করবে। ১৩ থেকে ১৭ পর্যন্ত সেখানে মেলা হবে। এতে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা হবে। এর আয়োজন করবে শিল্পকলা একাডেমি।
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের আয়োজনে বিজয় দিবসের দিন গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী যে ডায়াসে দাঁড়িয়ে শপথবাক্য পাঠ করান, সেখানে ‘মুজিববর্ষ’ বানান ছিল ভুল। সেখানে ‘সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষের শপথ’ এর পরিবর্তে লেখা ছিল ‘সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবর্ষের শপথ’। এ নিয়ে সর্বত্র সমালোচনা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়।
