হবিগঞ্জের বৈকুন্ঠপুর চা বাগানে এক শ্রমিকের বাড়ি উচ্ছেদের রেশ ধরে বন্ধ হওয়া বাগানের কার্যক্রম পুনরায় চালু করাসহ ২৫ দফা দাবিতে সভা হয়েছে।
বুধবার সকাল দশটায় হবিগঞ্জ জেলার বৈকুন্ঠপুর চা বাগানের স্থানীয় নাট্যমন্দিরে ‘বৈকুন্ঠপুর চা বাগান আন্দোলন কমিটি’র উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বৈকুন্ঠপুর চা বাগানের মালিক কর্তৃক দিলীপ কেউট নামক একজন শ্রমিকের বাড়ি উচ্ছেদের রেশ ধরে বন্ধ হয় বাগানের কার্যক্রম। বাগানের কার্যক্রম পুনরায় চালু করাসহ ২৫ দফা দাবি তুলে ধরেন সভার আয়োজকেরা। আগামী ৩১ ডিসেম্বর শুক্রবারের মধ্যে সংকট নিরসন না হলে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে বলেও জানান তারা।
আরও জানা যায়, স্থায়ী চা শ্রমিককে বাগান মালিকপক্ষ আবাসন সুবিধা দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়নি স্থায়ী চা শ্রমিক দিলীপ কেউটকে। কালক্ষেপণ ও বাসস্থান সংকটের তোপে বাধ্য হয়ে নিজের খাজনা দেওয়া ফসলি জমিতে বাড়ি বানানোর জন্য ম্যানেজার এবং পঞ্চায়েত কমিটির থেকে মৌখিক অনুমতি নেন তিনি। কিন্তু বাড়ি তোলার ১৫ দিনের মাথায় মালিকপক্ষ বাড়ি উচ্ছেদের নোটিশ দেয়।
শ্রমিকেরা জানান, স্থানীয় চা শ্রমিকেরা দিলীপের পক্ষে কথা বললে ১২ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে মামলা এবং বেশ কিছু শ্রমিককে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। পাশাপাশি গত এক মাস ধরে বৈকুন্ঠপুর চা বাগানের কার্যক্রম এবং শ্রমিকদের মজুরি ও রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সভায় আবাসন বঞ্চিত সকল চা শ্রমিকের স্থায়ীভাবে সংকট নিরসন, অস্থায়ী চা শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা করা, কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত, মজুরি বৃদ্ধিসহ নানা দাবি করেন শ্রমিক নেতারা।
২০১৯ সালে বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তর কর্তৃক ২৫ দফা ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে বৈকুন্ঠপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন চৌহান বলেন, ‘ইশতেহারের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে স্থানীয় আবাসন সংকট নিরসনের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা ছিল। আজ তিন বছর পরেও ২৫ দফার এক দফা সমাধানও চা শ্রমিকেরা চোখে দেখেনি।’
আন্দোলন কমিটির সদস্য মাইকেল বাসকের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল, লস্করপুর ভ্যালীর সভাপতি রবীন্দ্র গৌড়, সাধারণ সম্পাদক অনিরুদ্ধ বাড়াইক, বৈকুন্ঠপুর চা আন্দোলন কমিটির সভাপতি মনিব কর্মকার, বাংলাদেশ চা কন্যা নারী সংগঠনের আহ্বায়ক খাইরুন আক্তার, নোয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মীরা কৈরী প্রমুখ।
