মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. বরকত আলী নতুন রাজনৈতিক দল গণঅধিকার পরিষদে যোগদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৭ ডিসেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণঅধিকার পরিষদের সদস্যসচিব সাবেক ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।
এ সময় তার সঙ্গে যোগদান করেন জেলা যুবদল নেতা শিবলু, ব্যবসায়ী শাহেদ জোয়ার্দার, মোহাম্মদ রাসেল। বরকত মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
তারা গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আজীবন থাকার বিষয়ে অঙ্গীকার করেন। এ সময় তাদের মিষ্টি মুখ করিয়ে দলে নতুনদের স্বাগত জানান দলটির সদস্যসচিব নুরুল হক নুর।
যোগদানের বিষয়ে মো. বরকত আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি একজন অবহেলিত ভাইস চেয়ারম্যান। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনীতি করেছি। উপজেলা যুবলীগের জয়েন সেক্রেটারি ছিলাম। কিন্তু দলে কোনো মূল্যায়ন ছিল না। দলীয় কিংবা সরকারি কোনো অনুষ্ঠানে আমাকে ডাকা হতো না। সবকিছুতে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমার থেকে ইউনিয়ন পরিষদের একজন ওয়ার্ড সদস্য ভালো পজিশন আছে। মনের কষ্টে আমি দল পরিবর্তন করেছি।’
তিনি আরও জানান, আমি গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গেই আছি। তাদের চিন্তা পজিটিভ। দল ছোট হলেও জনসমর্থনে বড়।
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি বিপ্লব রেজা বিকো জানান, তিনি শুনেছেন বরকত গণঅধিকার পরিষদে যোগ দিয়েছেন। বরকত উপজেলা নয় ইউনিয়ন যুবলীগের কমিটিতে বলে জানান। তবে তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, প্রায় বিশ বছর আগে ভাইস চেয়ারম্যান বরকত আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিল। তবে সে কোনো রাজনৈতিক পদে নেই। এ ছাড়া ভিপি নুরের দলে যোগদানের বিষয়ে আমি কিছু শুনি নাই।
প্রসঙ্গত, গত ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. বরকত আলী। তিনি চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে ৩০ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন।
