ভাড়াভিত্তিক পুরনো চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গতকাল বুধবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। সবকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রই গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। এগুলোর মেয়াদ এক থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার নতুন একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনেরও অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। গতকাল অনুষ্ঠিত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের এসব প্রস্তাব অনুমোদন হয় বলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এছাড়া ওই বৈঠকে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের আরও সাতটি প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী জানান, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসেনি। যখন আসবে, তখন সেই প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কভিডের কারণে সাধারণ মানুষ বিপদে আছেন। বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে মানুষ তা বহন করতে পারবেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন মানুষ যাতে বহন করতে পারেন, সে জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস, সবাই ভালো আছেন।
গতকাল যে চার কেন্দ্রের মেয়াদ বেড়েছে, তার মধ্যে সিলেটের কুমারগাঁওয়ের ৫০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী এই কেন্দ্র থেকে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ ১ টাকা ৯৭ পয়সা দরে কিনবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৮৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ফেঞ্চুগঞ্জের ৫০ মেগাওয়াট ও বগুড়ার ২০ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ তিন বছর করে বাড়ানো হয়েছে। ফেঞ্চুগঞ্জের কেন্দ্র থেকে ২ টাকা ১২ পয়সা এবং বগুড়ার কেন্দ্র থেকে ২ টাকা ৩ পয়সা দরে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেওয়ার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হবে ৩৮৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। আশুগঞ্জ ৫৩ মেগাওয়াট গ্যাসভিত্তিক ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানো হয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা দরে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ৪৫১ কোটি ২০ লাখ টাকা। মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়া কেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রথম তিনটি বিদুৎকেন্দ্র হোসাফ গ্রুপের। অন্যটি ইউনাইটেড গ্রুপের।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রয়োজনে বিদ্যুৎ কিনলে অর্থ পরিশোধ করতে হবে। আর যখন বিদ্যুৎ নেওয়া হবে না তখন অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। অর্থাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রাখলে অর্থ দিতে হবে না। রেন্টালগুলো ‘নো ইলেকট্রিসিটি নো পেমেন্ট’ সিস্টেমে চলবে।
এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ আগেই শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাপিটাল কস্ট তারা অনেক আগেই তুলে নিয়েছে। এই মুহূর্তে তারা কোনোরকমে এক বছর কিংবা পাঁচ বছর ধরে চললে কোনো বাড়তি চার্জ দিতে হবে না। শুধু যে পরিমাণ কিনব, সে পরিমাণ চার্জ দিতে হবে। সুতরাং ভয়ের কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ বিভিন্ন প্রেক্ষিতে সরকার কয়লাভিত্তিক ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন থেকে সরে এসেছে। ফলে বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ দরকার।
ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি হবে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র। গ্যাস অথবা আরএলএনজি হবে এই কেন্দ্রের জ্বালানি। কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড, জিই ক্যাপিটাল ইউএস হোল্ডিং ইনকরপোরেশন, কনফিডেন্স পাওয়ার লিমিটেড জিইএস এবং ইলেকট্রোপ্যাক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কনসোর্টিয়ামের ভিত্তিতে কেন্দ্রটি স্থাপন করবে। ২২ বছর মেয়াদে এতে ব্যয় হবে ৬৯ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনা হবে ৩ দশমিক ৬৭৯ সেন্ট বা ২ টাকা ৯৪৩ পয়সায়।
ক্রয় কমিটির বৈঠকে এদিন ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ভারতের বাগাদিয়া ব্রাদার্স লিমিটেডের কাছ থেকে ৫০ হাজার টন গম ১৭৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ৯০০ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়। তাতে প্রতি টনের দাম পড়ছে ৪০৪ দশমিক ১১ ডলার।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আবেদনে খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছ থেকে ২১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৩ টাকায় দুটি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম কেনার একটি প্রস্তাবও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবে একই কোম্পানির কাছ থেকে আরও দুটি ২৪ ইঞ্চি কাটার সাকশন ড্রেজারসহ সহায়ক জলযান ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ২১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৩ টাকায় কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
