সার্চ কমিটিতে জাফর ইকবালের নাম প্রস্তাব করল বিকল্প ধারা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২২, ১০:১৯ পিএম

নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটির জন্য লেখক-অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালসহ তিনজনের নাম প্রস্তাব করেছে বিকল্প ধারা।

রবিবার বঙ্গভবনে সংলাপে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বিবেচনার জন্য নাম প্রস্তাব করে বিকল্প ধারা।

তাদের প্রস্তাবিত অন্য দুজন হলেন- তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যবসায়ী রোকেয়া আফজাল রহমান এবং সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা।

নাম প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিকল্প ধারার মুখপাত্র মাহী বি চৌধুরী।

এর আগে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠনের জন্য জাতীয় পার্টি ও তরীকত ফেডারেশন রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করলেও তা প্রকাশ করেনি।

উল্লেখ্য, গত দুই বার ইসি নিয়োগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে সার্চ কমিটি গঠনের নামের প্রস্তাব নিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। ওই সার্চ কমিটির সুপারিশ করা নাম থেকে রাষ্ট্রপতি নতুন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করেছিলেন। নির্বাচন কমিশন গঠনের আইন পঞ্চাশ বছরেও না হওয়ার মধ্যে এবারও সেই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে এখন পর্যন্ত জানা গেছে।

তবে এবার সংলাপে এখন অবধি অংশ নেওয়া অধিকাংশ দলই কোনো নাম প্রস্তাব করেনি। বিএনপিসহ কয়েকটি দল সংলাপেই যাচ্ছে না।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের গত মাসে সংলাপ গিয়েছিলেন। তারা সার্চ কমিটির জন্য ৪-৫ জনের নাম দিয়েছেন।

তরীকত ফেডারেশন আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে প্রধান করে সাবেক একজন সচিবকে সদস্য সচিব, একজন শিক্ষক, একজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং একজন সাংবাদিক নিয়ে মোট ৫ (পাঁচ) সদস্যের সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব রেখেছিল।

বিকল্পধারা সংলাপে গেলেও তাদের সভাপতি, সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী যাননি। সংলাপে নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব আবদুল মান্নান।

সংলাপ শেষে বেরিয়ে বিকল্প ধারার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাহী তাদের প্রস্তাবিত নাম তিনটি প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যাদের নাম প্রস্তাব করেছি আমরা বিশ্বাস করি, নির্বাচন কমিশনার হিসেবেও তারা গ্রহণযোগ্য হবেন।’

নাম প্রকাশ করার যুক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকেও বলেছি এই নামগুলো আমরা প্রকাশ করব। বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য মানুষের অভাব নেই। বিকল্পধারা উন্মুক্ত রাজনীতি চায়।’

সংলাপে বিকল্পধারা ইসি নিয়োগে আইন চেয়েছেন, তবে বিকল্প হিসেবে সার্চ কমিটি গঠনে নামের প্রস্তাব দিয়েছেন।

মাহী বলেন, ‘আইন করতে গেলে সময় লাগতে পারে। তাড়াহুড়া করে করতে গেলে, বিতর্কিত আইন হলে নির্বাচন ব্যবস্থাটাই বিতর্কের মধ্যে আসতে পারে। সে জন্য এই মুহূর্তে আইন করতে গেলে সকল দলের সমন্বয়ের প্রয়োজন থাকতে পারে। সে জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সার্চ কমিটি গঠনের কথা বলেছি। এবারের পর স্থায়ী আইনের দরকার। আমরা বলেছি নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি স্থায়ী আইন থাকা জরুরি। মহামান্য রাষ্ট্রপতিও আমাদের কথায় সায় দিয়েছেন। তিনিও মনে করেন একটি আইন থাকা দরকার।

মাহী আরো বলেন, ‘আমরা তিনটা প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা বলেছি, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো সার্চ কমিটির কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারের নাম প্রস্তাব করবে। দুই নম্বরে বলেছি, প্রস্তাবিত নাম থেকে সার্চ কমিটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য কমিশনার নিয়োগের জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করবে। সেখান থেকে মহামান্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশন গঠন করবেন।’

বিকল্প ধারার সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা নির্বাচন কমিশন গঠনে আইন প্রণয়নসহ তিন দফা সুপারিশ পেশ করেন। তারা বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি সার্চ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলো দ্বারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নাম ও কমিশনারদের নাম প্রস্তাবের সুপারিশ করেন, যেখান থেকে সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের নাম প্রস্তাব করবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত