স্কুলে ভর্তি হয়েছে মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সেই সুরাইয়া

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০২:১৯ এএম

মাগুরার মাতৃগর্ভে গুলিবিদ্ধ সেই সুরাইয়া স্কুলে ভর্তি হয়েছে। গতকাল রবিবার তাকে মাগুরা পুলিশ লাইনস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে ভর্তি করিয়েছে তার পরিবার। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা আক্তার। 

২০১৫ সালের ২৩ জুলাই মাগুরা শহরের দোয়ারপাড়া এলাকায় ক্ষমতাসীন দলের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে নাজমা বেগম এবং তার গর্ভের সন্তান গুলিবিদ্ধ হয়। মাগুরা সদর হাসপাতালের শল্য চিকিৎসক সার্জন শফিউর রহমান জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সেই শিশুকে ভূমিষ্ঠ করান। তবে গুলির আঘাতে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেড়ে উঠছে শিশু সুরাইয়া।

উন্নত চিকিৎসা পেলেই সুরাইয়া ভালো হয়ে যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কিন্তু দরিদ্র মা-বাবার সেই অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই। তারপরও সুরাইয়াকে স্কুলে ভর্তি করেছেন তাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন বলে।

সুরাইয়ার বাবা বাচ্চু ভূঁইয়ার দুশ্চিন্তা, তার মেয়েটি কখনো হাঁটতে পারে না। প্রতিদিন তাকে কে স্কুলে নিয়ে যাবে সেই চিন্তায় তার ঘুম হয় না বলে জানান তিনি।

সুরাইয়ার বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তার মা নাজমা বেগম জানান, গুলির আঘাতে সুরাইয়ার ডান চোখটি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসক বলেছেন, ডান চোখে আর দেখতে পাবে না সে। বাঁ চোখটির অবস্থাও ভালো না। ডান চোখ তুলে না ফেললে বাম চোখও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তার সমবয়সীরা এখন দৌড়ে বেড়ালেও সুরাইয়া এখনো দাঁড়াতেও পারে না। কেউ দুহাতে ধরে দাঁড় করিয়ে দিলেও ছেড়ে দিলেই সে পড়ে যায়। ইতিমধ্যে তার গলায় একটি টিউমারও ধরা পড়েছে। সুরাইয়ার ডান পাশটিতে জোর কমে যাচ্ছে। ডান হাতে সে কাজ করতে পারে না।

এদিকে আলোচিত ওই ঘটনার মামলার আসামিরা জামিন নিয়ে বেরিয়ে গেছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাজী এস্কেন্দার আজম বাবলু জানান, আলোচিত এ মামলাটি সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে সরকার পক্ষ আন্তরিক। মাঝে বিচারিক আদালতে বিচারক না থাকায় কিছুটা দেরি হয়েছে। তবে তিনি আশা করছেন সব সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে দ্রুত বিচারকাজ শেষ করা যাবে।    

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত